বর্ধমান: লকডাউন শুরুর দিনই মৃত্যু হয় বর্ধমান শহরের বাজেপ্রতাপপুর নবোদয় সংঘের সম্পাদক উত্তম দে ওরফে দীপকের। ক্লাবের সম্পাদকের অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকা গত কয়েকদিন ধরেই ছিল শোকস্তব্ধ।

সোমবার সেই শোকাচ্ছন্ন পরিবেশেই পরিবারের লোকজন সহ চলচ্চিত্রাভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বাবা মাও সামিল হলেন সামাজিক কর্তব্য বোধে।

মারা যাবার আগে এই করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্লাবের ছেলেদের সাধারণ মানুষের স্বার্থে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন উত্তম দে। সোমবার ছিল শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। তাঁর ভাই পঙ্কজ দে জানিয়েছেন, সোমবার তাঁর ভাইয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানকে কার্যতই বাতিল করা হয়েছে। কেবলমাত্র পুরোহিত দিয়ে যেটুকু অনুষ্ঠান তাইই করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিচিতদের নিয়ে যে খাওয়ানোর অনুষ্ঠান তা বাতিল করে তাঁরা এদিন এলাকার প্রায় ৬০ জন গরীব দুস্থ মানুষের হাতে চাল, আলু প্রভৃতি তুলে দিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, যেহেতু তাঁর ভাই সাধারণ মানুষের উপকার করতে ভালবাসতেন তাই তাঁরা গরীব মানুষের হাতে এই খাদ্য দ্রব্য তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিকে, উত্তমবাবুর এই প্রয়াণ অনুষ্ঠানে কেবল তাঁর পরিবারের সদস্যরাই নয়, এগিয়ে এলেন বাংলার চলতি সময়ের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বাবা দেবপ্রসাদ গাঙ্গুলী এবং তাঁর মা বীণা গাঙ্গুলীও। এদিন তাঁরাও দুজনে মিলে উত্তমবাবুর স্মরণে স্থানীয় গরীব মানুষদের হাতে চাল ও আলু তুলে দেন।

দেবপ্রসাদবাবু জানিয়েছেন, চলতি লকডাউনের জেরে গরীব খেটে খাওয়া মানুষের চরম অসুবিধা ঘটছে। তাই এদিন তাঁরা উত্তমবাবুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েই কিছু মানুষকে অন্ন তুলে দিয়েছেন।