স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: চুরাশি বছরের বৃদ্ধা মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। প্রতিকারের আশায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হলেন বৃদ্ধা মা। ঘটনাটি বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকার নবাসন গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশীপুর গ্রামের।

কাশীপুর গ্রামের বৃদ্ধা শক্তিবালা কর্মকারকে তাঁর ছোটো ছেলে আশিস কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ বৃদ্ধা মা গত ২২ জুলাই সোনামুখী থানায় ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷

আশিসের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে ঠিকই৷ কিন্তু অভিযোগ এখনও পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেনি৷ ছেলের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ওই বৃদ্ধার উপর ছেলের অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছে৷ অভিযোগ শনিবার বিকেলে ছেলে, ছেলের বউ মিলে মারধর করে বৃদ্ধা মাকে৷ গায়ে হাত তোলে এক নাতিও৷

কী বলছেন বৃদ্ধা মা শুনে নিন…

বাধ্য হয়ে রবিবার আবারও সোনামুখী পুলিশের দ্বারস্থ হন বৃদ্ধা শক্তিবালা কর্মকার। এদিন সোনামুখী থানা চত্বরে একটি গাছের নিচে বসে শক্তিবালাদেবী বলেন, ‘‘সম্পত্তির জন্য ছোট ছেলেটা আমাকে প্রায়ই মারধর করছে। ও চায় না আমি এ বাড়িতে থাকি৷ আরেক ছেলে বিশ্বজিৎ কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকে৷ আশিস চায় আমি বিশ্বজিতের কাছে গিয়ে থাকি৷ তার জন্য চাপ দেয় নিয়মিত৷’’

অথচ এরকম একটা অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে সে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার কোনও উদ্যোগও নেয়নি বলে অভিযোগ শক্তিবালাদেবীর৷ ছেলের হাতে নির্যাতিতা শক্তিবালা কর্মকারের আইনজীবি সোমনাথ ভট্টাচার্য বলেন, ওই বৃদ্ধাকে তাঁর ছেলে, বউমা ও নাতি তিনজনে এতটাই মারধর করেছেন যে তাঁর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বাবার স্মৃতিতে স্কুল পড়ুয়াদের খাতা পেনসিল দিলেন ছেলে

আইনজীবী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে বৃদ্ধার অপর ছেলে বিশ্বজিতের কাছে পৌঁছে দিতে চান৷ ওই বৃদ্ধার সঙ্গে আইনজীবি সোমনাথ ভট্টাচার্যও পুলিশী নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন৷ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না বলে তাঁর দাবি৷

তবে অভিযুক্ত আশিস কর্মকার সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে নারাজ৷ জেলা পুলিশের উদ্যোগে অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সাহায্যের জন্য সম্প্রতি ‘উজ্জীবন’ প্রকল্প চালু হয়েছে৷ এই প্রকল্পে সোনামুখী থানা এলাকার ১৮০জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন৷ তার মধ্যে নবাসন গ্রামপঞ্চায়েত এলাকারই ৮৪জন৷ জেলা পুলিশের এই প্রকল্প চালু থাকা সত্ত্বেও একজন অসহায় বৃদ্ধা মা ছেলের হাতে বারবার কেন আক্রান্ত হচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷