ফাইল ছবি

দিপালী সেন, কলকাতা: পছন্দের কলেজে সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন নিয়ে ভর্তি হতে চান অঙ্কিতা সাহা (নাম পরিবর্তিত)৷ ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা৷ কিন্তু, সেই টাকা দেবেন কি না তা নিয়ে দোটানায় ছিলেন তিনি৷

এই ভাবনা-চিন্তার অবসরে সোশ্যাল মিডিয়া ঘাটতে গিয়ে তাঁর নজরে আসে ‘সময়ের শব্দ’ ট্রাস্টের একটি পোস্ট ৷ সেই পোস্টে লেখা ছিল, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি সংক্রান্ত প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে বিনামূল্যে সহায়তা করছে এই ট্রাস্ট৷ নিজের পছন্দের বিষয়ে ও কলেজে ভর্তির জন্য মোটা অংকের টাকা দেবেন কি না? আর এই টাকা না দিলে কি তিনি ভর্তি হতে পারবেন না? এই ধরনের একাধিক প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে পোষ্টটিতে দেওয়া নম্বরে ফোন করেন তিনি৷

ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে তাঁকে জানানো হয়, অঙ্কিতার যা নম্বর আছে তাতে টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই৷ তিনি যদি নামকরা কলেজে ভর্তির আবেদন করেন, তা হলেই তাঁর পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন৷ এই পরামর্শে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন তিনি৷

১৫ বছর ধরে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র সদস্যের অনুদানে চলে আসছে এই ট্রাস্ট৷ তাদের এই বছরের নতুন উদ্যোগ, বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যায় সাহায্য করা৷ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অর্ঘ্য রায় বলেন, ‘‘প্রতি বছরই আমাদের কাছে খবর আসে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতারিত হয়েছেন৷ তাঁরা ভর্তি হওয়ার জন্য টাকা দিচ্ছেন৷ আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে টাকা দিলেও ভর্তি হতে পারছেন না৷ দেখা যায়, ভর্তি হয়ে গিয়েছে৷ সেই সংক্রান্ত নথিপত্রও পেয়েছেন৷ কিন্তু, ক্লাস করতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন আসলে তাঁদের ভর্তিটি ভুয়ো৷’’

এই ধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে৷ যাতে ভর্তি হতে গিয়ে পড়ুয়াদের যাতে কোনও রকম টাকা লেনদেনের ফাঁদে পড়তে না হয়৷ সেই বিষয়ে তাদের সচেতন করতে সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করে প্রচার শুরু করেছে এই ট্রাস্ট৷ কেউ যদি এই ধরনের সমস্যা নিয়ে তাদের ফোন করেন, তা হলে তাঁরা সমস্যার সমাধান খুঁজতে উদ্যত হন৷

তবে শুধু টাকা লেনদেনের ফাঁদ নয়৷ কেউ বাংলা বিষয় নিয়ে পড়তে চান৷ কিন্তু, তাঁর উচ্চ মাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বর নামকরা কোনও কলেজের জন্য যথেষ্ট নয়৷ সেক্ষেত্রে, ট্রাস্টের সদস্যদের ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন৷ তাঁর প্রাপ্ত নম্বরে কোন কলেজে বাংলা বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন সেই বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন ট্রাস্টের সদস্যরা৷

 

আর্থিক সংকটে রয়েছেন এমন পড়ুয়াদের পাশেও রয়েছে এই ট্রাস্ট৷ এই ধরনের পড়ুয়ারা যাতে ফ্রি স্টুডেন্টশিপ পান, তাঁদের জন্য কলেজগুলির সঙ্গে ট্রাস্টের তরফে কথা বলা হয় বলে জানানো হয়েছে৷ তারপর তাঁরা ফ্রি স্টুডেন্টশিপের জন্য যোগ্য কি না তা বিচার করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ৷

জয়েন্টের পর এখন অনলাইন কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে কলেজ বেছে নেবেন পড়ুয়ারা৷ কিন্তু, এই অনলাইন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটা অনেকটাই জটিল বলে মনে করেন৷ দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীরা অনলাইন কাউন্সেলিং-এর জন্য সাইবার ক্যাফেতে যান৷ অভিযোগ, সেই সাইবার ক্যাফের সঙ্গে যোগসাজস করে নিজেদের নাম সুপারিশ করিয়ে থাকে অনেক কলেজ৷ তার ফলে দেখা যায়, মোটামুটি ভালো ব়্যাঙ্ক করেছেন এমন ছাত্র নামকরা কলেজ ছেড়ে ভর্তি হয়ে যান অন্য কোনও কলেজে৷ তাই তাঁদের সাহায্য করতে এই ট্রাস্ট বিভিন্ন কলেজের ব়্যাঙ্ক হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করছে৷

এ ছাড়া, বেসরকারি বিভিন্ন কলেজে অনুদানের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হয়৷ কৃতী ছাত্র-ছাত্রী কিন্তু, অনুদান দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই৷ এই ধরনের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান ছাড়াই ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন তার জন্য ইতিমধ্যেই ৩৭টি কলেজের সঙ্গে কথা বলেছে এই ট্রাস্ট৷ অর্ঘ্য রায় বলেছেন, ‘‘কলেজগুলি প্রতিটি বিভাগে ১৫টি করে আসন আমাদের সুপারিশ করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷’’