কলকাতা: পিঠে বইয়ের ব্যাগ, পরনে স্কুল ইউনিফর্ম। পথ চলতে চলতে রাস্তার মাঝে হঠাতই ‘পারফেক্ট’ সমারসল্ট। টেলিভিশনের পর্দায় প্রশিক্ষিত জিমন্যাস্ট বা গোলের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে যা সাধারণত দিয়ে থাকেন ফুটবলাররা। কিন্তু পিচের রাস্তায় এমন নিখুঁত সমারসল্ট দিয়ে দিনকয়েক আগে ইন্টারনেটে রীতিমতো সেনসেশন বনে গিয়েছিলেন এগারো বছরের জাসিকা খান ও বছর বারোর মহম্মদ আজাজউদ্দিন। কলকাতার এই দুই খুদেকে এবার পূর্ণ সময়ের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিল সাই’য়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা।

দিনদশেক আগে কলকাতার দুই খুদে স্কুল পড়ুয়ার এহেন কর্মকান্ড দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন খোদ নাদিয়া কোমেনিচি। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে জাসিকা-আজাজউদ্দিনের সমারসল্টের ভিডিও পোস্ট করেন কিংবদন্তি রোমানিয়ান জিমন্যাস্ট। প্রথম জিমন্যাস্ট হিসেবে ১৯৭৬ মন্ট্রিল অলিম্পিকে যার ‘পারফেক্ট ১০’ জায়গা করে নিয়েছিল ইতিহাসে। কলকাতার দুই খুদের সমারসল্টের ভিডিও পোস্ট করে কোমেনিচি লিখেছিলেন, ‘এটা অসাধারণ।’

এক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই সাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে নিল কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার দুই খুদে স্কুল পড়ুয়া। গত বুধবারই জাসিকা ও আজাজউদ্দিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। সাইয়ের পূর্বাঞ্চলের ডিরেক্টর মনমিত সিং জানান, ‘ওদের মধ্যে জিমন্যাস্টিকের সহজাত প্রতিভা রয়েছে। ওদের আগ্রহ ছাড়া এটা সম্ভব হত না। জিমন্যাস্টিকে ওদের আগ্রহ দেখে আমরা খুশি।’

সাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ”আপাতত দুই খুদে হোস্টেলে থেকেই প্রশিক্ষণ নেবে। অন্যান্যদের মতো সমস্ত সুযোগ-সুবিধাই পাবে তারা। বিশেষজ্ঞ কোচেদের অধীনেই প্রশিক্ষণ চলবে জাসিকা ও আজাজউদ্দিনের।”

উল্লেখ্য, কিংবদন্তি কোমেনিচির টুইট দেখে ক্রীড়ামন্ত্রী কিরণ রিজিজুও দুই খুদে স্কুল পড়ুয়ার প্রশংসা করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি লেখেন,’নাদিয়া কোমেনিচু টুইট করায় আমি ভীষণ খুশি। এটা সত্যিই স্পেশ্যাল। দুই খুদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে রইল।’