স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অথৈ জলে জোট৷ সমঝোতার কাঁটা হয়ে দাঁড়াল রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র৷ শুক্রবার ওই দুই আসনে একতরফাভাবেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে বামেরা৷ ফলে চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জে৷ এদিন প্রদেশ কংগ্রেসও জানিয়ে দিয়েছে, তারাও মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ তাদের প্রেসটিজফাইট৷ তাই প্রার্থী দেবে তারাও৷ তবে বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে বাম কংগ্রেস উভয় দলের পক্ষই জোটের রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে৷

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের ঘোষণার পরপরই সিপিএমের সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র৷ জোট অস্বস্তির কারণ হিসাবে সোমেন মিত্ররা দায় ঠেলেছেন আলিমুদ্দিনের নেতাদের ঘাড়েই৷ এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘‘বামেরা যদি জোটে আগ্রহী না হয় তবে একাই লড়বে কংগ্রেস৷ পুরো বিষয়টি জানানো হবে হাইকম্যান্ডকে৷’’ জোটের দরজা খোলা থাকলেও সোমেনবাবুর কথাতেই স্পষ্ট রাজ্যের বুকে ‘একলা চলো’র জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেনবিধানভবনের নেতারা৷

নিজেদের গড়ে এবার প্রার্থী দিতে চায় হাত শিবির৷ সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধির চৌধুরি নিজে৷ অন্যদিকে, ২০১৪ সালে জেতা দুটি আসনই ধরে রাখতে মরিয়া সিপিএম৷ ২০১৬-এর জোটসঙ্গীর দাবি মেনে সেই আসন ছেড়ে দিতে নারাজ তারা৷ এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান৷ ক্ষিপ্ত প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বেরও হুঙ্কার ওই দুই আসনে তারাও প্রার্থী দেবে৷ ফলে ‘কমন এনিমি’ তৃণমূল, বিজেপি ভুলে ভোট ময়দানের লড়াইতে এখন সম্মুখ সমরে হাত ও কাস্তে-হাতুড়ি শিবির৷

এদিকে, বামফ্রন্ট শরিক সিপিআই জানিয়েছে ঘাটাল, মেদিনীপুর, বসিরহাটে প্রার্থী দেবে তারা৷ এদিকে সিপিএমের বৈঠকে স্থির হয়েছে গতবার কংগ্রেসের চারটি আসনে তারা প্রার্খী দেবে না৷ রাজনৈতির মহলের ব্যাখ্যা জোট বাঙার দায় তাদের উপর থেকে ঝেড ফেলতেই এই পদক্ষেপ বামেদের৷