দেবযানী সরকার, কলকাতা: মামা-ভাগ্নী দুজনেই অনেকদিন ধরে বেসুরো গাইছিলেন৷ দুজনেই চাইছিলেন তৃণমূলের হাত ধরতে৷ সোমবার ভাগ্নি মৌসম নূর ‘বেনজির’ ভাবে ডিগবাজি খেলেও তাঁর মামা আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালুবাবুর উপর আস্থা রাখলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র৷ মৌসমই হলেন প্রথম কোনও কংগ্রেস সাংসদ যিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন৷

তবুও প্রদেশ সভাপতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, ডালুবাবু কংগ্রেসেই থাকছেন৷ বিধানভবন সূত্রের খবর, সেই আস্থা থেকেই আবু হাসেম খান চৌধুরীকে মালদহের জেলা সভাপতি করছেন প্রদেশ সভাপতি৷

এতদিন কংগ্রেসের মালদহের জেলা সভাপতি ছিলেন মৌসম৷ একই সঙ্গে তিনি উত্তর মালদহ কেন্দ্রে কংগ্রেস সাংসদ৷ সদ্য প্রদেশের নতুন কমিটিতেও মৌসমকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তাঁর দলবদলে সেই সভাপতির পদ এখন ফাঁকা৷ যদিও সোমবার রাতেই মৌসমের পদ কেড়ে নিয়েছেন সোমেন৷ কিন্তু, মৌসম নিজে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেননি৷ তবে খুব শীঘ্রই ওই জেলার সভাপতি হিসেবে প্রয়াত গণিখান চৌধুরীর ভাই তথা দক্ষিণ মালদহের সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীকে মালদহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে খবর৷

মঙ্গলবার সোমেন মিত্র বলেন, ডালুবাবু প্রথমে তৃণমূলে যেতে চেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু পরে তিনি সব বুঝে পিছিয়ে আসেন৷ ছেলে ইশাকে দলে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন৷ মৌসমের বিরুদ্ধে ইশাই লড়বে৷ ডালুবাবুও কংগ্রেসেই থাকছেন৷ মৌসমের আগে জেলার দায়িত্ব আবু হাসেম খান চৌধুরীর সামলাতেন৷

তবে দলের অনেকের মনেই প্রশ্ন, আশির কোঠায় এসে জেলার দায়িত্ব কি তিনি সামলাতে পারবেন? মৌসমের কাছ থেকে সদ্য এতবড় ধাক্কা খেয়ে দলের অনেকেই আবার ওই পরিবারের উপর খানিকটা অসন্তুষ্ট৷ প্রদেশের এক নেতার কথায়, ডালুবাবুও তো কয়েকদিন আগে তৃণমূল-তৃণমূল করছিলেন৷ কোনদিন দেখব উনিও চলে গিয়েছেন৷ এবার অন্তত মালদহে ওই পরিবারের বাইরে কাউকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া উচিত৷

তবে বিধানভবনের আর এক নেতার বক্তব্য, কাউকে বিশ্বাস করাটা তো অন্যায় নয়৷ সোমেনদা ওর কথা বিশ্বাস করছেন৷ যেরকম মৌসমকে করেছিলেন৷ কিন্তু কেউ বিশ্বাস ভাঙলে কি করা যাবে?এদিন মালদহে ডালুবাবু নিজেও বলেছেন তিনি কংগ্রেসেই থাকছেন৷