কলকাতা: চলে গেলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। আর সেই রাজনৈতিক জীবনে এসেছে অনেক উত্থান-পতন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছেই ছোড়দা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

কেন ছোড়দা? এক সাক্ষাৎকারে এই গল্প বলেছিলেন সোমেন মিত্র। জানিয়েছিলেন তাঁর ডাক নাম আসলে খোকন। আবার তাঁর এক পিসতুতো দাদা ছিলেন, তাঁরও নাম খোকন। তিনিই সোমেন বাবুদের বাড়িতেই থাকতেন। তাই খোকন বলে ডাকলে, কে সাড়া দেবে, তা নিয়ে সমস্যা ছিল।

আর সেই সমস্যা কাটাতেই সোমেনবাবুর সেই দাদাকে ‘বড়দা’ আর সোমেনবাবুকে ‘ছোড়দা’ নামে ডাকা শুরু হয়। সেই থেকেই সবার ছোড়দা হয়ে রয়ে গেলেন তিনি।

অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন থেকেই। তবে তাঁর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না রাজনৈতিক মহল। গভীর রাতে এই খবর প্রকাশ‍্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শোক প্রকাশ করে প্রদেশ কংগ্রেস।

কয়েকদিন আগেই রাজ্যপালকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপি-রাজ্যপালের ছদ্ম রাজনীতির লড়াইয়ে বাংলার মানুষ পিষ্ট হচ্ছেন। এভাবেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে আক্রমণ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

জুন মাসে ভার্চুয়াল সভা করে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামাম বাজিয়ে দেন বিজেপির শীর্ষ নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঠিক তার পরের দিনই আগামী বছরের বিধানসভা ভোট নিয়ে সুর চড়ান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন রাজ্যপাল। এই প্রসঙ্গে টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের অনেকে শাসকদলের কর্মীর মতো কাজ করছেন।’

রাজ্যপালের টুইটের প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। বলেছিলেন, “এটা ঠিকই রাজ্যের গণতন্ত্র তৃণমূল রাজত্বে বার-বার রক্তাক্ত হয়েছে। রাজ্যপাল ঠিকই বলেছেন যে, পুলিশ-প্রশাসন শাসক দলের সামনের লাইনে দাঁড়িয়ে দলের কাজ করছে। কিন্তু রাজ্যপাল যখন পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলেন যে তাঁদের কৃতকর্মের ফলভোগ করতে হবে সেটাকেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলে কিনা আমার জানা নেই। রাজ্যপালের ভাষাও তো বিজেপি প্রবক্তাদের ভাষার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে! পুলিশ যদি তৃণমূল দলের হয়ে কাজ করে তবে রাজ্যপালও তো বিজেপি দলের হয়েই কাজ করছেন। দুই পক্ষের ছদ্ম- রাজনীতির লড়াইয়ে বাংলার মানুষ পিষ্ট হচ্ছেন।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও