বর্ধমান (পূর্ব) :- ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে ইভিএমে কারচুপি করে। লন্ডনে সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন সাইবার বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুজা যখন এই দাবী করলেন তখন বীরভূমে একটি দলীয় সভায় যাবার আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র জানিয়ে গেলেন, তিনিই প্রথম ইভিএমের বদলে ব্যালটেই ভোট চেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, যে বিশেষজ্ঞ দলটি ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সরবরাহ করেছিল, সৈয়দ সুজা সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন বলেই দাবি করেছেন লন্ডনের এই সাংবাদিক দল।

শুধু তাই নয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কী ভাবে কারচুপি করা যায়, সেই বিষয়টিও তিনি দেখিয়েছেন সৈয়দ সুজা। এদিকে, এদিন বীরভূমের রামপুরহাটে দলীয় একটি সভায় যোগ দিতে যাবার আগে বর্ধমানের কানাইনাটশাল বাংলোতে আসেন সোমেন মিত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য।

বর্ধমানের কানাইনাটশাল বাংলোতে এসে সোমেন মিত্র জেলা কংগ্রেস নেতাদের নিয়েও সংক্ষিপ্ত বৈঠক সারেন। লোকসভা ভোটে জেলা কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে একাধিক নির্দেশও দিয়ে যান সোমেন মিত্র। আগামী দিনে কংগ্রেস কোন পথে আন্দোলনে নামবে তার রূপরেখা তৈরি করে দেন তিনি।

পরে তিনি জানান, আগামীদিনে কংগ্রেস বিজেপিকে হারানোর জন্য জোটকে সমর্থন করছে। কংগ্রেস কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা নিয়ে ভাবে না। বিজেপি হারানোর জন্য যারাই জোট গড়ুক না কেন কংগ্রেস তাকে সমর্থন করবে। দেশকে বাঁচানোই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। কংগ্রেসের দেশের জন্য এর আগেও আত্মত্যাগ করেছে ভবিষ্যতেও করবে। তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কোন জোট হতে পারে না এটা পরিস্কার হয়ে গেছে বলে এদিন জানিয়ে যান সোমেন মিত্র।

অন্যদিকে, প্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খরচ। টাকার জোগান নিয়েই চিন্তিত কংগ্রেস। এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন ও বর্তমান দুই সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে কানাইনাটশাল বাংলোতে হাজির ছিলেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কাশীনাথ গাঙ্গুলী, গৌরব সমাদ্দার, উজ্জ্বল সোম প্রমখরাও।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এদিন সোমেনবাবু জানিয়েছেন, ইভিএম নয়, ব্যালটের মাধ্যমে তিনিই প্রথম ভোট করার দাবী করেছেন। উল্লেখ্য, শনিবার ব্রিগেড সমাবেশেও ইভিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা। ফলে এদিন সোমেন মিত্রের এই দাবী নিয়ে রীতিমত রাজনৈতিক চর্চা বাড়ল।