স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বঙ্গ বিজেপির পর এবার কার্নিভ্যাল ইস্যুতে রাজ্যপালের পাশে দাঁড়ালো প্রদেশ কংগ্রেসও।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র সাফ জানিয়েছেন,রাজ্যপালকে অসম্মান করা মানে সংবিধানকে অসম্মান করা। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস সোমেন মিত্র একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “দুর্গাপূজা কার্নিভালে রাজ্যপাল অপমানিত হয়েছেন বলে সেই কথা আজ সংবাদমাধ্যমে তিনি নিজেই বলেছেন।

প্রদেশ কংগ্রেসের মনে করে সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল একটি সম্মানীয় পদ অলংকৃত করেন। ব্যক্তি হিসেবে তাঁর কাজ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু তাঁর আসনের অসম্মান সংবিধানকেই অসম্মানিত করা। রাজ্যপাল যদি অপমানিত হয়ে থাকেন, তবে এটি অত্যন্ত দুঃখের এবং লজ্জ্বার ঘটনা।” রেড রোডের কার্নিভাল নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর কার্নিভালের মঞ্চে ডেকে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। রাজ্যপালের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রেড রোডে পুজো কার্নিভাল ঘিরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷

তাঁর দাবি, রাজ্যপালকে সম্মান দিতেই কার্নিভালে পৃথক মঞ্চ গড়া হয়েছিল৷ গত ১১ অক্টোবর রেড রোডে কার্নিভালের আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। তাতে দেখা যায়, মূল মঞ্চে বসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে সরকারি আমলা থেকে শুরু করে সিরিয়ালের অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত রয়েছেন। কিন্তু রাজ্যপালের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি পৃথক মঞ্চে। সেখানে বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন।

এ প্রসঙ্গেই রাজ্যপাল মঙ্গলবার বলেন, “রাজ্যের প্রথম নাগরিককে যে ভাবে আলাদা করে বসিয়ে কোণঠাসা করা হল তা দুঃখজনক শুধু নয়, লজ্জাজনকও বটে। তাঁর কথায়, আমাকে এমন জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল যে কার্নিভালের অনুষ্ঠানই আমি দেখতে পাইনি। সামনে কুড়ি বাইশ জন লোক ব্লক করে বসেছিলেন। আমাকে অনেক বার আসন বদলাতে হয় ভাল করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য। তাঁর প্রশ্ন, এটা কি সৌজন্য?”

রাজ্যপাল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত৷ রাজ্যপালের এই অভিযোগ শুনে রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক তাপস রায় বলেন, “ছিঃ ছিঃ ছিঃ! রাজ্যপাল যদি এ কথা বলে থাকেন তা হলে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ওনাকে সম্মান দিতেই পৃথক মঞ্চ গড়ে তাঁকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। আমি জানি না উনি কী চাইছেন! কেন এরকম বলছেন!”

 

রাজ্যপালের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল ঠিক কথাই বলেছেন। অপাংক্তেয় রেখে অপমান করা হয়েছে। উনি যাতে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন সেকারণেই আলাদা জায়গায় বসানো হয়েছিল তাঁকে। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে এটা অপমানজনক। সেটাই উনি বলেছেন। উনি সত্য কথাই বলছেন। আর তাই হয়তো সরকারের কাছে উনি অস্বস্তিকর।”