শেখর দুবে, আসানসোল: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় মোদী ঝড় ১৮টি আসনে ঘাসফুলকে উড়িয়ে দিয়েছে। মোদী ঝড়ের গ্রাস থেকে বাদ যায়নি আসানসোল লোকসভাও। আর তারই ক্ষোভে চাকুরি খোয়ালেন বার্নপুর ৭৭ নং ওয়ার্ডের প্রায় দশ জন অস্থায়ী কর্মী।

দ্বিতীয়বারের জন্য আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন বাবুল সুপ্রিয়। পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও। বাবুলের পৌষমাস হলেও সর্বনাশ হয়েছে বার্নপুরের ৭৭ ওয়ার্ডের কিছু অস্থায়ী কর্মীর। শেষ কয়েক বছর ধরে এই ওয়ার্ডে প্রায় ১০ জন ভলেন্টিয়ার কাজ করতেন রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে।

পৌরসভার সুপারভাইজারের অধীনে ডেঙ্গু সচেতনতা, নিজের ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়গুলি করতেন এই ভলেন্টিয়াররা। এই কাজের জন্য প্রতিদিনের হিসেবে ১৫০ টাকা করে পেতেন তারা। কিন্তু ভোটের রেজাল্টের পর হঠাৎ করে তাদের বলা হয়েছে তোমাদের কাজ নেই।

এরপর এই অস্থায়ী ভলেন্টিয়ার কর্মীরা আসানসোলের মেয়রের কাছে তিনি জানিয়ে দেন, তোরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিস তাই তোদের কাজ দেওয়া হবে না। আসানসোলের মেয়র রয়েছেন শাসক দলের পরিচিত মুখ জীতেন্দ্র তিওয়ারি। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের পর যাকে আরও বেশি দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

কাজ হারানো ভলেন্টিয়ারদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, “আমরা অনেক বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। প্রথমে প্রতিদিনের বেতন ছিল ৫০ টাকা এখন সেটা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। ভোটের জন্য কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। তারপর কাজ করতে গেল আমাদের বলা হয় কাজ দেওয়া হবে না। এরপর আমরা মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে দেখা করি। উনি সোজাসুজি জানিয়ে দেন আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছি তাই আমাদের কাজ দেওয়া হবে না।”

শেষ কয়েকবছর ধরে এই ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে কাজ করার বার্নপুর ৭৭ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন সুপারভাইজার ছায়া দত্ত। উনি বলেন, “আমি গত বছর চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। তবে এখনও ভলেন্টিয়ারদের কাজটা আমাকেই দেখতে হয়। উপর মহল থেকে আমাদের বলা হয়েছে নতুন ভলেন্টিয়ার পাঠানো হবে। পুরনোদের দিয়ে কাজ করানো যাবে না। সেটাই আমরা ওদের জানিয়ে দিয়েছি। তবে আজও নতুন ভলেন্টিয়ার না আসায় মেডিক্যাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলে আমি পুরনোদের দিয়েই কাজ করিয়েছি।”

পুরো বিষয়টি নিয়ে আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.