স্বাগত ঘোষ, কলকাতা: অতিমারির প্রচ্ছন্ন হুমকিতে এমনিতেই ফ্যাকাসে দিনটা। তার উপর পড়শি ক্লাব যখন দেশের সেরা লিগে খেলার তোড়জোড় করছে ঠিক তখন লেসলি ক্লডিয়াস সরনির ক্লাব তাঁবুটা কেমন গুমরে রয়েছে। ঝড়ের আগের পূর্বাভাস কী এটা, তা সময় বলবে।

কিন্তু গতবছর এমন একটা দিনে কলকাতার গলি থেকে রাজপথ মোটামুটি দখলে নিয়ে নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলিয়ানরা। আর অদ্ভুতভাবে একটা বছর পর ক্লাবের শতবর্ষের দিনে কেমন যেন গুটিয়ে সমর্থকেরা।

আসলে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে এখন দরকার আইএসএল খেলার নিশ্চয়তা। তাহলে ওটাই হবে সমর্থকদের কাছে সব পেয়েছির আনন্দ। কিন্তু সেটা না হলে যে পড়শি ক্লাবের সঙ্গে সম্মানের লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়বেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। এমনিতেই আই লিগ নিয়ে প্রতিনিয়ত টিপ্পনি। তার উপর মোহনবাগান দেশের সর্বোচ্চ লিগ খেলবে, অথচ ইস্টবেঙ্গল আই লিগ!

ভাবতে পারছেন না ক্লাবের বহু সমর্থক। অভিমানে কেউ কেউ বলছেন ক্লাবটা দশ বছর পিছিয়ে যাবে। কিন্তু আদৌ কী তাই? তাই সমর্থক হিসেবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মুষড়ে না পড়ে ক্লাব সম্পর্কে রইল কিছু ট্রিভিয়া। যা সমর্থক হিসেবে গর্বিত করবে আপনাকে।

১. ১৯২০ কোচবিহার কাপের ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে জোড়াবাগানের হার। হারের দায় গিয়ে পড়েছিল দলের দুই বাঙাল ফুটবলার শৈলেশ বোস এবং নসা সেনের কাঁধে। গর্জে উঠলেন ওপার বাংলার শিল্পপতি সুরেশ চন্দ্র চৌধুরি। রাজা মন্মথনাথ চৌধুরি, শৈলেশ বোস, রমেশ চন্দ্র সেন এবং অরবিন্দ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে জোড়াবাগান ক্লাব থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।

২. জার্সির রং’য়ের কারণে সমর্থকেরা তাঁদের প্রিয় দলকে ‘লাল-হলুদ ব্রিগেড’ নামেও ডেকে থাকেন। ক্লাবের দুই প্রতীক ‘ইলিশ’ এবং ‘প্রজ্জ্বলিত মশাল’।

৩. দেশের অন্যতম সফল ক্লাব হিসেবে রেকর্ড ৩৯ বার কলকাতা লিগ, রেকর্ড ২৯ বার আইএফএ শিল্ড, রেকর্ড ১৬ বার ডুরান্ড ক্লাব, ১০ বার রোভার্স কাপ, ৮ বার ফেডারেশন কাপ, ৩ বার জাতীয় ফুটবল লিগ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল।

৪. একমাত্র ক্লাব হিসেবে এযাবৎ সবক’টি আই লিগে (পূর্বে জাতীয় ফুটবল লিগ) অংশগ্রহণ করার নজির রয়েছে লাল-হলুদের।

৫. প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা দু’বার (২০০৩/২০০৪) জাতীয় লিগ জয়ের নজির রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের।

৬. মহাদেশীয় বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় দেশের সবচেয়ে সফল ক্লাব হিসেবে উঠে আসে ইস্টবেঙ্গলের নাম। ২০১৩ দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে এএফসি কাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল লাল-হলুদ।

৭ 1970 ইরানের পাস ক্লাবকে হারিয়ে আই এফএ শিল্ড জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। স্বাধীনতার পর ওই প্রথম কোনও বিদেশি ক্লাবকে হারিয়ে প্রতিযোগীতামূলক টুর্নামেন্ট জিতেছিল ভারতের কোনও ক্লাব।

৮. ১৯৭৫ আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যা দু’প্রধানের মুখোমুখি সাক্ষাতে এখনও অবধি সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।

৯. ক্লাবের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত ২০০৩ আসিয়ান কাপ জয়। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় থাইল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বেক তেরো সাসানাকে হারিয়ে দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল।

১০. ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ঐতিহ্যের বড় ম্যাচে একমাত্র হ্যাটট্রিকধারী বাইচুং ভুটিয়া। ১৯৯৭ ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে তিনবার মহনবাগানের জালে বল জড়িয়েছিলেন ‘পাহাড়ি বিছে’।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।