কলকাতা: রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ছবি। জায়গায় জায়গায় ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। শনিবার আরও তীব্র আকার নিয়েছে সেই বিক্ষোভ। এদিন সকালে একটি ভিডিও-তে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলে ফের একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে শান্তিরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন বিকেলে একটি বিবৃত দিয়ে তিনি বলেছেন, থানা, রেল, এয়ারপোর্ট, পোস্ট অফিস, সরকারি অফিস- এগুলি সবই সরকারি সম্পত্তি। এগুলি নষ্ট করলে আইন অনুযায়ী, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মমতা বলেন, ‘আমিও নাগরিকত্ব বিল ও এনআরসি-র বিরোধী কিন্তু কোনও হিংসা ছড়িয়ে বিরোধিতা করা উচিৎ নয়।’ গণতন্ত্র মেনে সিএবি ও এনআরসি-র বিরোধিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আর সাম্প্রদায়িকতার উদ্দেশে চারিদিকে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। সবার কাছে আমার আনুরোধ শান্তি বজায় রাখুন।’

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আগেই আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ভিডিও পোস্ট করে এই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

এদিন মমতা বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’ বিভিন্ন জায়গা থেকে অবরোধের খবর আসছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। এখানে ক্যাব হচ্ছে না, এনআরসি-ও হচ্ছে না।’ তাঁর দাবি, কেন্দ্র আইন পাস করালেই তা রাজ্যে কার্যকর করাতে পারবে না। রাজ্য সরকারকেই তা কার্যকর করতে হবে।’