হারারে: আইসিসি’র নির্বাসনের ধাক্কা সামলাতে না পেরে শেষমেশ অবসর নিয়ে বসলেন জিম্বাবোয়ের অল-রাউন্ডার সলোমন মায়ের৷ নির্বাচন সংক্রান্ত অস্বচ্ছতার জন্য জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ণ সদস্যপদ খারিজ করে আইসিসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করেছে তাদের৷ ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটাররা অংশ নিতে পারবেন না কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে৷

এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বিকল্প পেশার সন্ধানে ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মায়ের৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মায়ের বলেন যে, সিদ্ধান্তটা সময়োপযোগী নয় কখনই৷ অর্থাৎ, সময়ের আগেই তিনি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন৷

আরও পড়ুন: শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন কোহলি

অবসরের কথা ঘোষণা করে মায়ের জানান, ‘আবেগঘন একটা সপ্তাহ কাটল, যেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রের বহু উত্থান-পতন চোখে পড়ল৷ যদিও জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের পক্ষে সময়টা মোটেও ভালো নয়৷ এই অবস্থায় সকলকে সরকারিভাবে একটা কথা জানাতে চাই, যেটা ক্রিকেটার ও টেকনিক্যাল স্টাফদের ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি যে, সব ধরণের ক্রিকেট থেকে অবিলম্বে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলাম৷ সিদ্ধান্তটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক ও সময়োপযোগী নয় বটে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির উপর আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই৷ তাই নতুন দিকে এগিয়ে যাওয়াই সঠিক মনে হয়েছে আমার৷’

২৯ বছর বসয়ী মায়ের জিম্বাবোয়ের হয়ে ২টি টেস্ট, ৪৭টি ওয়ান ডে ও ৯টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন৷ টেস্টে ৭৮ রান করার পাশাপাশি ১টি উইকেট নিয়েছেন৷ ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৯৫৫ রান করেছেন এবং ১২টি উইকেট নিয়েছেন৷ টি-২০’তে ২৫৩ রান করেছেন এবং ১টি উইকেট দখল করেছেন৷ তিন ফর্ম্যাট মিলিয়ে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর৷

আরও পড়ুন: ম্যাঞ্চেস্টার বিমানবন্দরে আক্রমকে জিজ্ঞাসাবাদ

ক’দিন আগে জিম্বাবোয়ের আর এক তারকা অল-রাউন্ডার সিকন্দর রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ক্রিকেট ছেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তাঁরা৷ অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন জিম্বাবোয়েকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

রাজার কথায়, ‘আইসিসির এমন শাস্তি ঘোষণার পর থেকেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা মুষঢ়ে পড়েছে। কেউই বুঝে উঠতে পারছে না কি হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে।সবার মনের অবস্থা ঠিক সেইরকম, যেমনটা গতবছর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে হেরে বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া হওয়ার পর হয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা সবাই ব্যথিত। সবাই অত্যন্ত হতাশ। এই ধাক্কাটা সামলে ওঠা কঠিন। এভাবেই কি আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে? শুধু একজন ক্রিকেটারের নয়, গোটা একটা দেশের আবেগ, স্বপ্ন সব একসঙ্গে ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে? আমি নিশ্চিত আমার সতীর্থরাও এই কথাই ভাবছি যে, এবার আমাদের ভবিষ্যৎ কি? ক্রিকেট ছেড়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কি কোনও রাস্তা আছে?’