কলকাতা:  বাংলায় সৌরশক্তিতে বড় বিনিয়োগ হতে চলেছে। একেবারে দিঘার কাছেই তৈরি হচ্ছে বিশাল প্রজেক্ট। জানা যাচ্ছে, রামনগর দু’নম্বর ব্লকের দাদনপাত্রবাড়ে ৫৬২ একর জমির উপরে ১২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যা গড়বে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা বা পিডিসিএল। বাংলার বুকে এটাই অন্যতম বড় বিনিয়োগ বলে দাবি রাজ্যের। খুব শীঘ্রই এর জন্যে গ্লোবাল টেন্ডার ডাকা হবে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন মডেলে তৈরি হবে বিশাল এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, বিশাল এই বিনিয়োগের জন্যে জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক কেএফডব্লু ৬০০ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দেবে। তিনি জানিয়েছেন, ওই ঋণের শর্ত অনুযায়ী, প্রথম তিনবছর কোনও সুদ দিতে হবে না। পরে ১২ বছর ধরে তা শোধ করতে হবে। খুবই সামান্য সুদেই বিশাল এই বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী।

তাঁর দাবি, বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তুলনায় অনেক সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে জার্মানির কেএফডব্লু ব্যাংক। যা ওই দেশের সরকারি ব্যাংক। রাজ্য সরকার দেবে ১৫০ কোটি টাকা। এর জন্য কোনও জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। কারণ এই জমি সরকারের হাতে রয়েছে। একেবারে সমুদ্রের ধারে লবণাক্ত জমিতে এই সৌরশক্তির প্ল্যান্ট হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

২০১৯-এ ডিসেম্বর মাসে দিঘাতে বাণিজ্য সম্মেলন হয়। আর সেখানেই সৌরশক্তি প্ল্যান্ট তৈরির জন্যে একেবারে সহজ শর্তে রাজ্যকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় কেএফডব্লু। ওই ব্যাংক উচ্চপদস্থ এক কর্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ওই প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাব অর্থ দফতর ঘুরে সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অমিতবাবু। তিনি বলেন, এর ফলে বৃহত্তম সৌরশক্তির প্ল্যান্ট হবে রাজ্যে। কয়লা থেকে যে বিদ্যুৎ তৈরি হয়, তার থেকে কম খরচে সৌরশক্তির বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হওয়ার জন্য চার একর জমি লাগে।

দাদনপাত্রবাড়ে সমুদ্রের ধারে এক হাজার একর নোনা জমি রয়েছে। সেই জমির মধ্যে ৫৬২ একরের কোস্টাল রেগুলেশন জোন অথরিটি (সিআরজেড) থেকে জমির অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। তাই সেখানে ওই প্ল্যান্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি জমিও সিআরজেড যাতে অনুমোদন দেয়, তার জন্য চেষ্টা করা হবে। দাদনপাত্রবাড়ের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, তা গ্রিড পাঠানো হবে। তা পিক আওয়ারে ব্যবহার করা হবে। এর আগে রাজ্যে যে ক’টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে, তার থেকে অনেক বড় কেন্দ্র তৈরি হতে হলেছে রামনগরের দাদনপাত্রবাড়ে। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানও বাড়বে। পূর্ব ভারতে এত বড় সৌরশক্তির কেন্দ্র নেই। দ্রুত এই কেন্দ্র তৈরির জন্য কাজ করা হবে বলে অমিত মিত্র জানিয়েছেন।