স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: যারা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে পরিবার পরিজনদের ছেড়ে দেশ ও দেশবাসীর সুরক্ষার জন্য সেবা করে চলেছেন সেই সব বীর সৈনিকরা অবসর নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি মত সরকারি খরচে ন্যূনতম চিকিৎসার সুযোগও পাচ্ছেন না৷ এমন ছবিই দেখা গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান শহরে৷

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বর্ধমান শহরে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার সুযোগ দিতে ২০০২ সালে একটি ইসিএইচএস চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জায়গা মেলেনি৷ তাই দীর্ঘ ১৬ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তৈরি হয়নি হাসপাতাল। ফলে এখানকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৫০ কিমি দূরে পানাগড় সেনা ছাউনিতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বেসরকারিভাবেই চিকিৎসা করিয়ে নিতে বাধ্যও হচ্ছেন।

যেহেতু অবসরপ্রাপ্ত, তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও উত্তরোত্তর বাড়ছে। দেশের জন্য তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতেই ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পানাগড় হেড কোয়ার্টারের পাশাপাশি বর্ধমান শহরেও একটি এক্স সার্ভিস মেন কনট্রিবিউটরি হেলথ স্কিম চালুর অনুমোদন দেয়। সেই সময় সেনাবাহিনীর কর্নেল মুখোপাধ্যায় বর্ধমানে এসে এই হাসপাতাল (কেবলমাত্র আউটডোর) তৈরির কথা জানিয়ে যান।

প্রায় ১৬ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি সময়ে পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে চলছে নিহত সৈনিকদের জন্য স্মরণানুষ্ঠান৷ অন্যদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলছে বদলার আওয়াজ। কিন্তু সেনারা দেশের সুরক্ষা এবং দেশবাসীর সুরক্ষার জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করছেন৷ সেই অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদেরই এখন নিজেদের চিকিত্সার জন্য বর্ধমান থেকে প্রতিদিন যেতে হচ্ছে ৫০ কিমি দূরে পানাগড়ে। ফলে রীতিমত সমস্যার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

ইন্ডিয়ান এক্স সার্ভিসেস লিগ-এর বর্ধমান ইউনিটের সম্পাদক তাপস মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জেলা সৈনিক বোর্ডের অধীনে পূর্ব বর্ধমান জেলায় রয়েছেন ৯১৩৮ হাজার জন সদস্য এবং ১১৬৭ জন বিধবা সদস্য। তাঁদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের মোট সদস্যের সংখ্যা ৫০৩৫৮ জন। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রয়েছেন ১৬৯৯ জন সদস্য এবং ১৯৪জন বিধবা সদস্য। তাঁদের উপর নির্ভরশীল ৯২৭১ জন। বীরভূম জেলা এই সৈনিক বোর্ডের অধীনে রয়েছে। সেখানে রয়েছেন ৪৮৭২ জন সদস্য এবং ৬৪২জন বিধবা সদস্য। তাঁদের উপর নির্ভরশীল রয়েছেন ২৬ হাজার ৯২৮ জন।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে প্রয়োজনীয় জায়গার জন্য রাজ্য সরকার তথা জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। ২০০৮ সালে তৎকালীন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনও অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এই দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনও মেলেনি সেই জমি। ২০১৬ সালে জেলা ভূমি দফতর থেকে বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি জমিকে চিহ্নিত করে৷ সেই জমি হস্তান্তরের জন্য ৪৫ লক্ষ টাকা চেয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু তারপরেও কিছু এগোয়নি। গতবছর ২০১৮ সালেও ফের জেলা ভূমি দফতর থেকে এই বিষয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়।

যেহেতু এটা অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের বিষয় তাই তাঁরা চান বিনামূল্যে রাজ্য সরকার তথা জেলা প্রশাসন ওই জমি দিক। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা ফের জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে স্মারকলিপি দেবেন। যদিও এব্যাপারে বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) শশী কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন,এই বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ আবেদন জানাননি। যেহেতু তিনি নতুন এসেছেন তাই আগে কি হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তবে সেটা বিভাগীয় সরকারি আইন মেনেই হবে