প্রতীকী ছবি

মেরট: ‘অগলে জনম মোহে বিটিয়া না কি জো’৷ দিল্লি হাসপাতালে ৮০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় শুয়ে হয়তো মনে মনে এই কথাই ভাবছে বছর কুড়ির এক অভাগা তরুণী৷

অভাগাই সে৷ বিয়ের পরই মারা যায় স্বামী৷ বাক্স ব্যাটরা নিয়ে ফের ঠাঁই হয় বাপেরবাড়িতে৷ মেয়ের এভাবে ফিরে আসা হয়তো মেনে নিতে পারেনি বাড়ির লোক৷ তাই যখন এক ব্যক্তি ১০ হাজার টাকায় মেয়েটিকে কিনে নেওয়ার অফার দিল সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নিল বাড়ির লোক৷ সময় নষ্ট না করে বাবা ও এক কাকিমা মেয়েটিকে বিক্রি করে দিল পরপুরুষের কাছে৷

মেয়েটিকে ‘কিনে’ নিজের সঙ্গে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তি৷ এরপরেই শুরু বীভৎস অত্যাচারের৷ মেয়েটিকে কাজের লোক বানিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে পাঠাতো৷ তাঁকে বাধ্য করত বিনা মজুরিতে অন্য লোকের বাড়িতে বেগার খাটতে৷ ওই সব বাড়িতেই তাঁর উপর নানারকম অত্যাচার চলত৷ এমনকী একাধিকবার একাধিক পুরুষ তাঁকে ধর্ষণ করে৷ বারবার ধর্ষিতা হতে হতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে৷

তবুও হাল ছাড়েনি সে৷ একদিন পালানোর সুযোগ আসে৷ ওই দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে চায় পুলিশ স্টেশন৷ থানায় গিয়ে নিজের দুর্দশার কথা পুলিশকে জানায়৷ ভাবল এবার হয়তো এই নরক জীবন থেকে মুক্তি মিলবে৷ কিন্তু থানায় এসে চরম হতাশ হল সে৷ পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করে৷ এরপরই নিজের জীবন শেষ করার কথা চিন্তা করে৷ নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ তার জেরে শরীরে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়৷ এখন সে মৃত্যুর সঙ্গে দিল্লি হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছে৷

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হাপুরের এবং একমাস পুরানো৷ সম্প্রতি দিল্লি মহিলা কমিশন রাজ্য সরকার বিশেষ করে যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখে মেয়েটির জন্য ‘ন্যায়ের’ দাবি জানান৷ চিঠিতে মহিলা কমিশন নির্যাতিতার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের যেমন দাবি জানায়, তেমনই হাপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানায়৷ তারপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় এফআইআর৷ রবিবার হাপুরের এসপি যশবীর সিং জানান, বিভিন্ন ধারায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷

পুলিশ জানিয়েছে, যে ব্যক্তি ওই মেয়েটিকে কিনে নেয় তার বাজারে অনেক দেনা হয়ে যায়৷ সেই দেনা মেটাতে মেয়েটিকে ব্যবহার করে৷ যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিল তাদের বাড়িতে মেয়েটিকে পাঠায়৷ সেই সব বাড়িতে গিয়েই ধর্ষিতা হন ওই তরুণী৷ হাপুরের ঘটনা

এমন সময় এল যখন আরও একটি ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল দেশ৷ রাজস্থানের আলওয়ারের গত ২৬ এপ্রিল স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন উন্মত্ত যুবক৷ সরকার বদল হয়৷ নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে৷ মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়াতে নানা গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়৷ কিন্তু ওই পযর্ন্তই৷ মহিলাদের অবস্থা বিশেষ বদলায় না৷ নির্ভয়া গণধর্ষণের পর কাঠুয়া, উন্নাও, আলওয়াল ও হাপুরের ঘটনা তার জলন্ত প্রমাণ৷