স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের দামের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দেশের সব রেল স্টেশনেই রিনিয়েবল বা পুনর্নবিকরণ শক্তিতে তৈরি বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই পরিকল্পনারই পাইলট প্রোজেক্ট করা হচ্ছে হাওড়া স্টেশনকে।

কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে হাওড়া স্টেশনে। হাওড়া স্টেশনের ছাদে বসছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। এই প্যানেল থেকে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। হাওড়া স্টেশনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সেটি হবে ভারতীয় রেলের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

দেশের অন্যতম সুপ্রাচীন স্টেশন হল হাওড়া। ঐতিহ্যের এই হাওড়া স্টেশন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এলে বিদ্যুৎ এর চাহিদা অনেকাংশেই মিটে যাবে। উল্লেখ্য, হাওড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ২৯৩টি ট্রেন যাতায়াত করে। একদিকে যেমন হাওড়া জংশনে সব থেকে বেশি ট্রেনের চাপ, তেমনি সব থেকে বেশি যাত্রী এই স্টেশন দিয়েই যাতায়াত করে।

১৯৫৪ সালে হাওড়া স্টেশন কমপ্লেক্স বিদ্যুতায়নের পর প্রতিদিন ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সেই বিদ্যুতের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ইউনিটের চাহিদা মিটবে সৌরবিদ্যুৎ থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্যুতের চাহিদা কমাতেই এই সৌর-প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়েছে।

হাওড়া স্টেশনের মতো দেশের একটি বড় স্টেশনকে যদি সৌর প্রকল্পের আওতায় আনা যায় তাহলে তা হবে বিরাট সাফল্যের। ২০২৫ সালের মধ্যে সব স্টেশনকেই সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোলার এনার্জি কর্পোরেশন এই কাজ করবে। সোলার প্যানেল বসানোর কাজ করছে দিল্লির এক সংস্থা।

এপ্রসঙ্গে নির্মানকারী সংস্থার সাইট ইঞ্জিনিয়ার সুমিত পূনিয়া বলেন, ১৭নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ২৩নম্বর প্ল্যাটফর্ম এই কটি প্ল্যাটফর্মের ছাদে বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। প্রত্যেকটি প্ল্যাটফর্মের ছাদের উপরে বসানো হচ্ছে ১০২৯টি করে সোলার প্যানেল। এই প্রোজেক্ট থেকে দৈনিক ৫ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। যার মধ্যে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হবে হাওড়া স্টেশনের ব্যবহারে, বাকি ১ মেগাওয়াট উদ্বৃত্ত হবে।

এই প্রকল্পের ফলে মাসে ৫০ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বাঁচবে। জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে ও বর্ষাকালে প্রাকৃতিক কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কম হবে। এই প্রকল্প সফল হলে হাওড়া স্টেশনের ৫০-৬০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা সৌর বিদ্যুৎ থেকে মেটানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌর বিদ্যুতের খরচ পড়বে বাজারের থেকে বেশ কিছুটা কম। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে অন্যদিকে রেলের খরচও অনেকটাই কমবে। ফলে আগামী দিনে এক নজির তৈরি হতে চলেছে রেলের ইতিহাসে।