স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সেচের কাজে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নজির গড়লেন পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ১ ও ২ গ্রামে৷ বিশ্বব্যাংক ও রাজ্য সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ৪০২ হেক্টর জমির কৃষকরা সোলার সেচ প্রকল্প চালু করেছে৷

ক্ষুদ্র সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (এ-১) শ্যামল কুমার দাস, প্রকল্পাধিকারিক রূপম রায় চৌধুরী প্রমুখরা জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ইতিমধ্যেই মোট ৯৮টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প তাঁরা হাতে নিয়েছেন৷ এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প সম্পূর্ণ সোলার পদ্ধতিতে চলবে৷ বাকি ৮৬টি প্রকল্প বিদ্যুতচালিত৷

তাঁরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৮৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৩টির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে৷ এই ৯৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২৫০০ হেক্টর এলাকায় চাষ করা যাবে৷ আউশগ্রাম ১ ও ২ ব্লকের ১২টি সোলার প্রকল্পে মোট ৬৭টি টিউবওয়েলের মাধ্যমে ৪০২ হেক্টর এলাকায় চাষ করা যাবে৷ এজন্য খরচ পড়েছে প্রায় ৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা৷ ইতিমধ্যেই ২টি প্রকল্পের ১২টি টিউবওয়েলের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে৷

ছরই বোরোর জলের দাবিতে কোথাও না কোথাও চাষিদের বিক্ষোভও সংঘটিত হয়৷ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিশেষত দামোদরের ক্যানেলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেচের জল দেওয়া হয়৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানেলগুলি সঠিকভাবে সংস্কারের অভাবে একেবারে শেষপ্রান্তে গিয়ে জল পৌঁছায় না৷ ফলে চাষিরা কার্যত সংকটের মুখে পড়েন৷

যদিও চলতি বোরো চাষের মরশুমে জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, এবছর কমবেশি প্রায় সমস্ত ডিভিসি ক্যানেলের মাধ্যমেই জল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ একেবারে শেষ পর্যন্ত (টেল এণ্ড) যাতে জল পৌঁছায় সেজন্য সেচদফতরকে তদারকি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷

পূর্ব বর্ধমান জেলায় আউশগ্রাম ১ ও ২ এলাকা তুলনামূলকভাবে উঁচু এলাকায় অবস্থান করায় অনেকাংশেই এই ক্যানেলের জল পৌঁছায় না৷ স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার চাষিদের বোরো চাষের জন্য একমাত্র ভরসা করতে হয় স্যালোর ওপর। এই পঞ্চায়েতের কয়রাপুর এলাকার কৃষক উজ্জ্বল কাজি জানিয়েছেন, ৬০-৭০ বিঘে জমিতে বিদ্যুতের মাধ্যমে স্যালোতে চাষ করতে হলে দুই থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ পড়েছে৷ তাই অনেক দিন ধরেই তাঁরা এই সোলার সেচ প্রকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন৷ অবশেষে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এটি চালু হওয়ায় এলাকায় চাষের জলের কষ্ট দূর হয়েছে৷

তিনি জানিয়েছেন, এলাকার চাষিদের নিয়ে সোসাইটি গড়ে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ একটি ক্লাস্টারে ৬টি করে টিউবওয়েল থাকছে৷ এখানেই খড়ি নদী থেকে রিভার পাম্পের সাহায্যে প্রায় ৪৫০বিঘে জমিতে চাষ শুরু হয়েছে৷ তবে দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই সোলার পদ্ধতি পুরানো হলেও বর্তমান সময়কে বিবেচনা করেই চাষিদের মধ্যে এই সোলার সেচ প্রকল্প অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ চাহিদাও বাড়ছে৷