বেঙ্গালুরু: চাঁদের বুকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। কিন্তু চাঁদের চারপাশে এখনও ঘুরছে চন্দ্রযান-২ এর অরবিটার। তাতে ধরা পড়ছে একের পর এক মহাজাগতিক বিষয়। এবার তারই আপডেট দিল ইসরো।

জানা গিয়েছে ভারতের এই দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি ধরা পড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টায় ধরা পড়েছে একগুচ্ছ ‘সোলার ফ্লেয়ার।’ অর্থাৎ সূর্যের উপরিভাগে হওয়া একধরনের বিস্ফোরণ। অরবিটারের সোলার এক্স-রে মনিটরে ধরা পড়েছে সেই ছবি।

বর্তমানে সূর্য, চাঁদ ও ওই অরবিটার যে অবস্থানে রয়েছে, তাতে খুব বেশি তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না ইসরোর। তবে অরবিটারের ওই বিশেষ সিস্টেমের ক্ষমতা প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এই ছবি।

কী এই সোলার ফ্লেয়ার?

খুব কম সময়ের জন্য হয় এই ধরনের বিস্ফোরণ। একসঙ্গে অনেক পরিমাণ রেডিয়েশন বা বিচ্ছুরণ হয় এই সময় সূর্য থেকে। কি ধরনের ফ্লেয়ার হচ্ছে, তার উপর রেডিয়েশনের পরিমাণ নির্ভর করে।

কী পরীক্ষা করবে অরবিটার?

সূর্যের ওই রেডিয়েশন যতক্ষণ পর্যন্ত চাঁদের গায়ে স্পর্শ না করবে, ততক্ষণ অপেক্ষা করবে অরবিটার। রেডিয়েশন চাঁদের মাটি স্পর্শ করলেই উত্তেজিত হয়ে যাবে চাঁদের মাটিতে থাকা যে কোনও বস্তুর কনা বা অনু। সেই অনু থেকে এনার্জি ও এক্স-রে বেরিয়ে আসবে।

এরপর অরবিটারে আর একটি যন্ত্র রয়েছে। যেটি হল Chandrayaan 2 Large Area Soft X-ray Spectrometer (CLASS). অ্যাটম বা অনু থেকে বেরিয়ে আসা এক্স রে ধরা পড়তে পারবে ওই যন্ত্রে। সেখান থেকেই বোঝা যাবে চাঁদের গায়ে থাকা বস্তুটি বা বস্তুগুলি আসলে কী।

কী আছে চন্দ্রযানের অরবিটারে?

অরবিটারটিরই নাম চন্দ্রযান-২। একটি বাক্সের মত দেখতে একটি জিনিস। যার ওজন ২৩৭৯ কেজি। এই অরবিটার থেকে ১০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জেনারেট করতে পারে এই অরবিটার। ল্যান্ডারের সঙ্গে ও ভারতের স্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে এটি। অরবিটারের মধ্যে একাধিক উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন জিনিস। যা দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলবে।

রয়েছে একটি ম্যাপিং ক্যামেরা, একটি স্পেকট্রোমিটার, একটি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার। একটি ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার, একটি এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার ও একটি সোলার এক্স রে মনিটর। একটি সাড়ে ৭ বছর চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি পাঠাবে ভারতে।