তেহরান: শুক্রবার সকাল থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জুড়ে একটাই নাম মেজর জেনারেল কাশিম সোলেমানি। ইরানের অন্যতম সেনা অফিসার তিনি। বাগদাদে এক মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই তাঁকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পেন্টাগনের। এই সোলেমানিই কিছুদিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পাকিস্তানকে।

গত বছর এক হামলায় তাঁর বাহিনীর বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়, আর তাতে পাকিস্তানিদের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই গর্জে ওঠেন সোলেমানি। Islamic Revolutionary Guards Corps-এর কুদশ ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন তিনি। যে বাহিনীকে আমেরিকা জঙ্গি গোষ্ঠীর তকমা দিয়েছিল।

২০১৯-এর ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই বাহিনীর ২৭ জনের মৃত্যু হয় এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে। সেই হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-আল-আদল, এই জঙ্গি গোষ্ঠী দক্ষিণ ইরানের সিস্তান-বালোচিস্তান প্রদেশ ও পাকিস্তানে রয়েছে।

ওই ঘটনার পরই ২১ ফেব্রুয়ারি, সোলেমানি প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা সবসময়ই পাকিস্তানকে সাহায্য করতে চেয়েছি। কিন্তু পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তোমা কোন দিকে এগোচ্ছ?’ পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক প্রতিবেশীর সঙ্গে সীমান্তে অশান্তি তৈরি করেছ তোমরা। আর কোনও প্রতিবেশী কি বাকি আছে, যারা তোমাদের ভয় পায় না?’

তিনি সেইসময় আরও বলেন, ‘তোমাদের কাছে পরমাণু বোমা আছে, অথচ তোমাদের জঙ্গিদের ধ্বংস করতে পারছ না।’ তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে জঙ্গি হামলা খাস পাকিস্তানেই কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বলেছিলেন, ‘ইরানের মানুষকে তোমা কি সমবেদনা জানাবে?’ কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘ইরানকে পরীক্ষা করতে যেও না, যারা করেছে, তারা যোগ্য জবাব পেয়েছে।’

যদিও পাকিস্তান ইরানের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েচিল।

উল্লেখ্য, শুধু ইরানে নয়, ওই সময়েই অর্থঅৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের পুলওয়ামাতেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল পাক জঙ্গিরা। সেকথাও অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান। ঘটনার পরই ১৭ ফেব্রুয়ারি ইরানের মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ইরানের সেই মন্ত্রী ট্যুইটে লিখেছিলেন, “Enough is enough!”.

জানা যায়, সোলেমানি নিছক একজন সেনা অফিসার ছিলেন না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কি ভূমিকা নেবে, তার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সোলেমানি। বিবিসি জানাচ্ছে, দেশটির বিদেশমন্ত্রীর ভূমিকা তিনিই কার্যত পালন করতেন। বিশেষত যুদ্ধ কিংবা শান্তির ক্ষেত্রে তিনিই শেষ কথা। বলা হয়, সিরিয়ার যুদ্ধের কারিগরও নাকি তিনি। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেজর জেনারেল সোলেমানি।

১৯৯৮ সাল থেকে মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানি ইরানের কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডসের এই অভিজাত বাহিনীটি দেশের বাইরে কভার্ট অপারেশন চালিয়ে থাকে। আগে গোপনেই থেকেই কাজকর্ম চালাতেন সুলেমানি। পরে তাঁকে একের পর এক খবর ছাড়াও তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র। এমনকি পপ গানেও জায়গা পেয়েছেন ইরানের এই ‘হিরো’।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।