নয়াদিল্লি: দেশের জিডিপিতে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জিডিপির ১৪ শতাংশ আসে কৃষি থেকেই। এছাড়াও সারা দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কিন্তু বর্তমানে পর পর কৃষিজমিতে বাড়ি গড়ে তোলা ও শহর গড়ে ওঠা এবং একইসঙ্গে শস্যক্ষেত্রে অত্যাধিক হারে রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে ক্রমেই জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনের ওপর যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার বারেবারেই দাবি করে এসেছে তাঁরা কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং গ্রামের অবস্থার উন্নতি করতে তাঁরা বদ্ধ পরিকর। আর কৃষির থেকে কৃষকদের আয় বাড়াতে নয়া স্কিমও চালু করেছে মোদী সরকার। মাটির গুনগত মান বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় সরকার সয়েল হেলথ কার্ড যোজনাও এনেছে। এই যোজনার মূল লক্ষ্যই হল, রসায়নিক সারের ব্যবহার যতটা সম্ভব কম করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ফলন বৃদ্ধি ঘটানো।

বুধবার সয়েল হেলথ কার্ড ডে পালন করলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের সুরাটগড়ে এই যোজনার উদ্বোধন করেছিল প্রধানমন্ত্রী। এই যোজনার মূল উদ্দেশ্যই হল কৃষকেরা যাতে প্রত্যেক দুবছরে তাঁদের সয়েল কার্ড রিনু করিয়ে নেন। এরফলে মটির গুনগত মান ঠিক থাকে।

এই যোজনা কৃষকদের নিয়ে করা যোজনার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। দেশের সর্বাধিক কৃষক এই যোজনার অধীনে রয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১০ কোটি ৭০ লক্ষ কৃষক এই যোজনার অধীনে এসেছেন। এরপরে ২০১৯ সালের মধ্যে আরও ১০ লক্ষ কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বলেন, এই কার্ড দেওয়ার ফলে কৃষকেরা প্রভূত লাভ পাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের কাজ আরও হওয়া উচিৎ। কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই সয়েল হেলথ কার্ড যোজনার ওপর ভিত্তি করে এই মডেল ভিলেজ তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। এই গ্রামগুলির প্রত্যেকটি চাষের জমিই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে মোট ৬৯৫৪ টি গ্রাম এই প্রকল্পের অধীনে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, যাতে এই গ্রামগুলি থেকে মোট ২৬ লাখেরও বেশি মাটির নমুনা সংগ্রহ করা যায়। দাবি করা হয়েছে, এর মধ্যে ২১ লক্ষ নমুনা সংগ্রহও করা হয়ে গিয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা নমুনার মধ্যে থেকে ১ কোটি ৭৮ লক্ষ নমুনা প্রত্যেক বছর পরীক্ষা করা হয়। তবে বর্তমানে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩ কোটিরও বেশি করা হয়েছে। যে কারণে দেশজুড়ে মাটি পরীক্ষা কেন্দ্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বড় ও ছোট মিলিয়ে মোট ৭৯৪৯ টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু এই সংখ্যা সারা দেশের কৃষক ও চাষের জমির জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশজুড়ে আরও ১০ হাজার ৮৪৫ টি পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।