নয়াদিল্লি: অযোধ্যায় ঐতিহাসিক মুহুর্তের অপেক্ষা। কয়েক ঘণ্টা বাদেই ভূমি পূজা হবে রাম জন্মভূমিতে। আর সেখানেই গড়ে উঠবে রামের মন্দির। অযোধ্যর ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মন্দিরের ভূমি পুজোয় ব্যবহৃত হবে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ধর্মীয় স্থানের মাটি।

শুধু তাই নয়, রাম মন্দির নির্মাণে ব্যবহার করা হবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর বাসভবনের মাটিও। জানা গিয়েছে, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনের মাটিও ব্যবহৃত হবে। রামজন্মভূমি তথা এই তীর্থ ক্ষেত্রে মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্ত ও সাধুগণকে সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে মাটি পাঠাতে বলা হয়েছিল।

সেইমতো, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাটেশ্বর গ্রামের অটল বিহারী বাজপেয়ীর পৈতৃক বাড়ি থেকে রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর জন্য কলসী ভরে সেখান থেকে মাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়াও মঙ্গলবার আগ্রার মেয়র নবীন জৈন আগ্রার শ্রী মহাভীর দিগম্বর জৈন মন্দিরের মাটি ভরা একটি কলসি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাতে তুলে দিয়েছে। এই মাটিটিকে এদিন অযোধ্যাতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে ভিএইচপির উচ্চপদস্থ কর্মী আশিস আর্য বলেন, “আগ্রা ও মথুরা ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর পৈতৃক গ্রাম বাটেশ্বরের মাটিও অযোধ্যাতে পাঠানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মাটি বাজপেয়ীর পৈতৃক বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সংগ্রহ করা হয়েছে।” এই বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে রাকেশ বলেন, “বাটেশ্বরের লোকদের জন্য এটি খুবই গর্বের মুহূর্ত। যে এই গ্রামের মাটি ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের একটি অংশ হয়ে উঠবে।”

রাষ্ট্রীয় বজরঙ্গ দলের আঞ্চলিক সভাপতি সতেন্দ্র বড়ুয়া জানিয়েছেন, তিনি রাম জন্মভূমি তথা তীর্থ ক্ষেত্র অযোধ্যার চেয়ারম্যানকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনে অংশ নেওয়া অশোক সিংহল, রাজ কুমার কোঠারি এবং শরদ কোঠারির বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করার জন্যও আবেদন জানিয়েছিলেন। সমাজ কর্মী বিজয় উপাধ্যায় বলেন, মন্দির নির্মাণে অয্যোধার ব্রজ অঞ্চলের মানুষের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ব্রজের লোকেরা ৫ আগস্টের রাতটিকে দিওয়ালি হিসাবে উদযাপন করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

উওরপ্রদেশের মন্ত্রী লক্ষ্মী নারায়ণ বলেন যে, ব্রজ অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলনের সঙ্গে গভীর সংযোগ রয়েছে। মন্দিরটি নির্মাণের খবরে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা আজ খুবই আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, বুধবার ‘ভগবা’ পতাকাটি ব্রজ অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ে যাবে এবং এই অঞ্চলের বাসিন্দারা তাঁদের ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করবেন। হিন্দুস্তানী বিড়াদারীর ভাইস চেয়ারম্যান বিশাল শর্মা বলেন, “মন্দিরটির নির্মাণ পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ করা উচিত নয়। “

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা