স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ঘরবাড়ি, চাষের জমি আগেই গিয়েছিল৷ এবার পানীয় জলের যোগানেও টান পড়তে চলেছে মালদহ জুড়ে৷ ভাঙনের জেরে চাষের জমি গঙ্গা গর্ভে যাওয়ার সাথে সাথে এদিন তলিয়ে গেল আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের পাইপ।

এর জেরে জেলার দেবীপুর ও কাহালা অঞ্চলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানীয় জলের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছে। একদিকে পানীয় জলের সমস্যা অন্যদিকে তীব্র ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। যদিও সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানান দেবীপুর পঞ্চায়েত প্রধান।

জানা গিয়েছে গত কয়েকদিন ধরে ফুলহারের নদীতে জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। কিন্তু গত দুদিন ধরে নদীতে জল কমতে শুরু করেছে। আর যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ইতিমধ্যে মালদহের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রচুর চাষযোগ্য জমি ইতিমধ্যে চলে গিয়েছে গঙ্গা গর্ভে। যার ফলে অসহায়ের মতো দিন কাটাচ্ছে গ্রামের বাসিন্দারা।

এর মধ্যে দেবীপুর বাঁধের একাংশ ভেঙে তলিয়ে গেছে। আর এই ভাঙনের তীব্রতার জেরে বাঁধ সংলগ্ন আর্সেনিকমুক্ত পাইপ চলে গিয়েছে গঙ্গা গর্ভে। এতেই কাহালা ও দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জল সরবরাহ বিচ্ছিন্নহয়ে পড়েছে৷ যার ফলে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা।

এই গ্রামের বাসিন্দা নরোত্তম মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন যেভাবে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে তাতে খুব কম সময়ের মধ্যে এই দেবীপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে যাবে। নদীর জল কম থাকায় বাঁধ ভাঙলেও সেই জল এখনও গ্রামে প্রবেশ করেনি। তবে বাঁধ মেরামতি করে গ্রামকে রক্ষা করার জন্য সেচ দফতরে কর্মীরা কোন কাজ করছে না। আর সেই কারণেই দিনের পর দিন গ্রামের আমবাগান, চাষযোগ্য জমি সহ অনেক কিছুই গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ বিঘার ওপরে জমি চলে গিয়েছে ভাঙনে। প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুততার সঙ্গে এই ভাঙন রোধের কাজ করা। না হলে আগামী দিন দেবীপুর ও কাহালার বলে কোন অংশে থাকবে না। এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে জল সরবরাহের আর্সেনিক মুক্ত পাইপ। যার ফলে বন্ধ রয়েছে গ্রামে জল সরবরাহ ব্যবস্থা।পানীয় জলের ব্যবস্থা না করা হলে মানুষ অকালে প্রাণ হারাবে।

দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পঙ্কজ মিশ্র বলেন, আমরা ওই এলাকায় রিং বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে ভাঙন কিছুটা রোধ করা যায়। পাশাপাশি যেটুকু ত্রাণ এসেছিল তা দেওয়া হয়েছে। জলের সমস্যার কথা শুনেছি আমরা দ্রুত গ্রামের মানুষের কাছে জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ইতিমধ্যেই গত ছয় ঘন্টায় ১০ সেন্টিমিটার করে জল বেড়েছে মালদহ জেলার গঙ্গা, ফুলহার ও মহানন্দা নদীতে। গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর জল চরম বিপদ সীমা থেকে মাত্র ৭০ সেন্টিমিটার কম রয়েছে। সেচ দফতর এই দুটি নদীতে হলুদ সংকেত জারি করেছে। আর ফুলহার নদীতে লাল সর্তকতা জারি রয়েছে।

এর ওপর বিপদ বাড়িয়েছে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি। এই অবস্থায় জেলার দুটি ব্লক হরিশ্চন্দ্রপুর ২নং ব্লক ও রতুয়া ১নং ব্লকের অবস্থা সঙ্কটজনক। ফুলহার নদীর জলের তোড়ে দুদিন আগে সূর্যাপুর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর কাহালা, দেবীপুর গ্রামে জল ঢুকেছে। জলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন মহানন্দাটোলা, বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৩৬ হাজার বাসিন্দা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব