পূজা মণ্ডল, কলকাতা : প্রায় সবাই দিনের বেশিরভাগ সময়ে বইমুখো৷ কেউ ১৮ তো কেউ ১৫ ঘণ্টা ধরে পড়েছেন৷ কিন্তু সেই পথের উল্টো হাঁটলেন সোহম৷ মাত্র ছ’ঘণ্টা পড়েও জয়েন্টে প্রথম হওয়া যায়, প্রমাণ করলেন এই কৃতী৷

সোহম মিস্ত্রি এ বছর জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন রাজ্যে। চলতি বছর CBSE পরীক্ষাতেও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন সোহম। তার বাবা-মা দুজনেই দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে চাকরিরত। বাড়ি দুর্গাপুরের আনন্দপুরী কো-অপারেটিভে। মেধা তালিকা প্রকাশের পর Kolkata 24×7 এর সাথে একান্তে চলল সোহমের সাক্ষাৎকার পর্ব।

প্রশ্ন: তোমার সাফল্যের সফর কেমন ছিল?

উত্তর: আমি দিনে ছ’ঘণ্টা সেলফ স্টাডি করতাম। স্কুলে পড়েছি। প্রাইভেট কোচিং নিতাম। আমার বাবা-মা আমায় খুব সমর্থন করতেন। কোনও দিনও আমায় বলেন নি তোমায় প্রথম হওয়ার দৌড়ে থাকতে হবে। কোনও দিনও আমার উপর চাপ সৃষ্টি করেন নি। তবে সব সময় বলতেন নিজের ১০০ % দিয়ে আসবে সব সময়। শিক্ষকরাও আমাকে সব সময় সাহায্য করতেন পড়াশুনোর বিষয়ে।

প্রশ্ন: এই যে তোমার সাফল্য, বাকিদের পেছনে ফেলে তুমি এগিয়ে এলে, তোমার ইউনিক পয়েন্টটা কোথায়? কি মনে হয়!

উত্তর: আমি কোনও বিষয়কেই ছোট করে দেখিনি কখনও। সব খুঁটিয়ে পড়তাম। যদি মনে হতো কোনও বিষয়ে কোনও দুর্বলতা রয়ে গেছে তো সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়টির উপর আরও জোর দিতাম। যেগুলো ভালোভাবে পড়া হয়েছে, সেগুলোও আরও ভালো ভাবে পুর্নমুল্যায়ন করতাম। যাতে কিছু না ভুলে যাই। এইভাবে ঘষতে ঘষতেই সাফল্য ধরা দিয়েছে।

প্রশ্ন: ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনো করতে ভালোবাসতে?

উত্তর: হ্যাঁ, ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশুনো করতে ভালবাসি। মন ছিল পড়াশুনোতেই। এ বছর CBSEতে ৯০% নম্বর পেয়েছি। রাজ্যে তৃতীয় হয়েছি।

প্রশ্ন:তোমার আগামীদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিতে চাও?

উত্তর: প্রতিনিয়ত পড়াশুনো করে যেতে হবে। ফাঁকি দিলে হবে না। যেটুকু সময় পড়বে যেন মনোযোগ দিয়ে পড়ে। যেখানে আটকাবে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে গাইডদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ফেলে রাখলে চলবে না মোটেই।