মেলবোর্ন: আর পাঁচ জন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ীর কোচ যেমন হন, জীবনের গল্পটা ততটা সহজ সরল নয় সদ্য অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী সফিয়া কেনিনের প্রশিক্ষকের। কাকতলীয়ভাবে মার্কিন তরুণী সোফিয়ার কোচ হলেন তাঁর বাবা অ্যালেক্স কেনিন। নিজের সন্তানকে গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে বিজয় পতাকা তুলে ধরতে সাহায্য করেছেন এমন কোচ তথা পিতার সংখ্যাও পেশাদার সার্কিটে কম নেই। তফাৎ হল এই যে, অ্যালেক্স কেনিনের টেনিস সম্পর্কিত টেকনিক্যাল কোনও জ্ঞান নেই। অর্থাৎ পেশাদার সার্কিটে নিজে কখনও খেলতে নামেননি। এমনকি সেই অর্থে জীবনে কখনও টেনিসই খেলেননি তিনি।

জন্মসূত্রে রাশিয়ান অ্যালেক্স কিছুদিন আগে পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালাতেন। ইংরাজি বলতে পারতেন না। যাত্রীদের ভাষা বুঝতে হিমশিম খেতেন। সবথেকে সমস্যা হয়ে দাঁড়াত ট্যাক্সি রেডিওয় কথা বলাটাই। এহেন অ্যালেক্স কেনিন মেয়ে সোফিয়ার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ে আগাগোড়া কোর্টের পাশে থেকেছেন। ম্যাচের আগে-পরে প্রয়োজনমতো নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক করে দিয়েছেন স্ট্রাটেজি। টেনিসের স্বীকৃত জ্ঞান না থাকলেও সোফিয়ার কোথায়, ‘তিনি টেনিসের সবকিছু বোঝেন। সবকিছু জানেন।’

১৯৮৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কয়েকশো ডলার পকেটে নিয়ে স্ত্রী লেনাকে সঙ্গী করে পাড়ি দেন আমেরিকায়। রুজির টানে ট্যাক্সি চালানোর কাজ বেছে নেন। ট্যাক্সি চালাতেন রাতে। দিনের বেলায় স্কুলে যেতেন ইংরাজি শিখতে। সঙ্গে কম্পিউটারের ক্লাস।

মেয়েকে টেনিস শেখানোর স্বপ্ন শুরু থেকেই দেখতেন অ্যালেক্স। তবে একজন বহিরাগতর পক্ষে আমেরিকায় মেয়েকে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় করে তোলা কতটা কঠিন সেটা জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন তিনি। ছোটখাটো চেহারার সোফিয়াকে ছোটবেলায় টেনিস খেলার উপযোগী বলে মনে করেনি নিউইয়র্কের একাধিক অ্যাকাডেমী। তা সত্ত্বেও অসীম জেদে মেয়ের টেনিস ক্লাসের পরে নিজে দায়িত্ব নিয়ে বোঝাতেন খেলা সম্পর্কে খুঁটিনাটি। তার জন্য টেনিস কোচেদের খেলা শেখানোর ধরন আত্মস্থ করেছিলেন অ্যালেক্স।

অবশেষে সেই একাগ্রতার ফল পেলেন মেলবোর্ন পার্কে। বসে পড়লেন রিচার্ড উইলিয়ামস, মাইক আগাসি, ইউরি শারাপোভাদের সঙ্গে একাসনে। রিচার্ড তার দুই কন্যা সেরেনা ও ভেনাসকে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী করে তুলেছেন। মাইক তার পুত্র আন্দ্রে আগাসিকে পরিণত করেছেন কিংবদন্তিতে। ইউরির কন্যা মারিয়া শারাপোভা পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী। এবার অ্যালেক্সের কন্যা সোফিয়া যোগ দিলেন সেই তালিকায়।