শ্রীনগর: এরাজ্যের পাশাপাশি গোটা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে মহাশিব চতুর্দশী। বিশেষ এই দিনটি প্রাচীন ইতিহাসে শিব-পার্বতীর বিয়ের দিন হিসেবেই কথিত রয়েছে। তবে গোটা দেশজুড়ে এই দিনটি ঘিরে প্রবল উন্মাদনা দেখা যায় বাবার ভক্তদের মধ্যে। কারণ, শিব চতুর্দশীতে ভোলে বাবার মাথায় জল ঢাললে নাকি বাবা মহেশ্বর ভক্তের সব আশাপূর্ণ করেন। বিশেষ করে কুমারি মেয়েদের সকল মনস্কামনা পূর্ণ করেন তিনি। তাইতো শিব চতুর্দশীর আগের দিন থেকেই শম্ভুর পুজোর আচার অনুস্থানে মেতে ওঠেন তাঁর ভক্তেরা।

বছরের এই একটা বিশেষ দিন হল শিব চতুর্দশী। যেদিন নগর থেকে মফস্বল, রাজ্য থেকে শুরু করে গোটা দেশের অলিগলির মা-বোনেরা মেতে ওঠে বাবার মাথায় জল ঢালতে এবং শিবের আরাধনায়।

এই রাজ্যের পাশাপাশি শিবরাত্রি সাড়ম্বরে পালিত হয় শৈল শহর জম্মু ও কাশ্মীরেও। তবে সেখানের আঞ্চলিক ভাষা অনুযায়ী এই মহা শিবরাত্রি ‘হেরাথ’ নামে পরিচিত। এছাড়াও বিশেষ এই দিনে সারা রাত ধরে চলে সেখানে ত্রিলোকেশ্বরের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন। ভক্তেরা এদিন সারা রাত ধরে জল ঢালে শিবের মাথায়। যা তাঁদের কাছে ‘সালাম’ নামে পরিচিত।

তবে এই ‘হেরাথ’ বা ‘সালাম’ যে নামেই ডাকা হোক না কেন, শিব চতুর্দশীর দিনে কাশ্মীরের এই অনুষ্ঠানের পিছনে রয়েছে একটি অজানা ইতিহাস। কারণ, প্রতিবছর এই দিনে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর সহ লাদাখে প্রচুর পরিমানে বরফ পাত হয়। সেই সঙ্গে এই দু-তিন দিন ধরে সেখানে হালকা বৃষ্টিও হয়ে থাকে। এবছরও নাকি তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অজানা সেই ইতিহাসটি হল, তখন আনুমানিক অষ্টাদশ শতক চলছে। সেই সময় কাশ্মীরের শেষ আফগান শাসক ছিলেন জব্বর খান। তাঁর শাসনকালে কাশ্মীরি পন্ডিতদের কাছে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে এই ‘সালাম’ অনুষ্ঠানটির একটি আলাদা বিশেষত্ব ছিল। সেই সময় শিবরাত্রি অনুষ্ঠিত হত ফাল্গুন মাসের এই শিব চতুর্দশীতেই। কিন্তু, আফগান শাসক জব্বর খান তাঁদেরকে ইংরেজি জুলাই মাসে শিবরাত্রি পালনের জন্য বলেন। যা অমান্য করেছিলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতেরা। কথিত আছে, জব্বর খানের এই নির্দেশ অমান্য করায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর ভীষণ রুষ্ট হন জব্বর খান। সেই সময় তিনি কাশ্মীরের মানুষদের বলেছিলেন,” আমিও দেখতে চাই, গ্রীষ্মকালে শিবরাত্রি পালিত হলে এখানে তুষার পাত হয় কিনা।”

অবিশ্বাস্য ভাবে, শিবরাত্রির পর দিন সেখানে যারা ‘সালাম’ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করতে এসেছিলেন সেই সময় হঠাৎ করেই সেখানে তুষারপাত শুরু হয়। যা অবাক করে দিয়েছিল কাশ্মীরবাসীকে। সেই থেকে আজও ফাল্গুন মাসের এই শিব চতুর্দশীতে গোটা কাশ্মীর জুড়ে প্রবল তুষারপাত এবং সেই সঙ্গে বৃষ্টি হয়ে আসছে। যুগ যুগ ধরে অলৌকিক এই ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন গোটা কাশ্মীরবাসী।

এদিকে এই অলৌকিক ঘটনাকে সত্যি করে গত বুধবার থেকেই কাশ্মীর জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। পাশাপাশি লাদাখেও শুরু হয়েছে বরফের বৃষ্টি। এই বিষয়ে কাশ্মীর আবহাওয়া অফিসের ডিরেক্টর সোনম লোটাস জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মত এই বছরও গোটা উপত্যকা জুড়ে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রচুর বরফপাত হবে। তাঁর এই বক্তব্যকে সত্যি করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ এবং কারগিলে শুরু হয়েছে বরফের বৃষ্টি। কাশ্মীরের আবহাওয়া অফিস জানাছে, এই অবস্থা এখনও শনিবার পর্যন্ত চলবে। সেই সঙ্গে গোটা শৈল শহর জুড়ে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।