থিম্পু: ঝিরিঝিরি বরফে মুড়ে মোহময়ী ভুটান আরও মনমুগ্ধকর। হিমালয় ঘেরা দেশের বিভিন্ন অংশে শীত মরশুমের প্রথম তুষারপাত দেখা গেল। এর ফলে প্রতিবেশী ভারতের দুই শৈলশহর দার্জিলিং ও কালিম্পংয়েও তুষারপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে।

ভুটানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের খবর, শনিবার সকালেই দেশের কিছু এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়েছে। এরফলে পাহাড়ি পথে যান চলাচলের জন্য সতর্কতা জারি করেছে রয়াল ভুটান পুলিশ।

অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কতা, লাগাতার বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিরও পূর্বাভাসও রয়েছে ভুটান সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। এরই মধ্যে দার্জিলিংয়ে প্রবল তুষারপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

ভুটান ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের খবর, কয়েকটি গিরিপথ এলাকায় ভারি তুষারপাতের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
গিরিপথগুলি হল বুমথাং ও মঙ্গোরের মধ্যে থ্রুমসেং লা। পারো এবং হা উপত্যকার মাঝে টেরগো লা। এছাড়াও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চেলে লা গিরিপথ ( তিব্বতি শব্দ লা মানে গিরিপথ)।

ইতিমধ্যে তুষারপাতের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুরু হয়েছে ধীরে যান চলাচল। রাস্তায় দেখা যাচ্ছে পুলিশ কর্মীরা বরফ সরিয়ে কোনওরকমে গাড়ি ঠেলে সরাচ্ছেন।

থিম্পু সংলগ্ন দোচু লা আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক বলেই জানানো হয়েছে। তবে তুষারপাতের পরিমাণ আরও বাড়লে রাস্তা বন্ধ হবে বলেই ধারণা।

শীতের সময় পর্যটক কমই থাকেন ভুটানে। বিশ্বের অন্যতম কার্বন নেগেটিভ দেশ হিসেবে তকমা পাওয়া ভুটান নজর কাড়ছে প্রকৃতি রক্ষায়।

এদিকে আগামী পর্যটন মরশুম ঘিরে চিন্তিত উত্তর বঙ্গ, অসম সহ বিভিন্ন ভারতীয় পর্যটন সংস্থাগুলি। কারণ এতদিন পর্যন্ত ভুটানে প্রবেশ করার জন্য ভারতীয়দের কোনও পর্যটন ফি দিতে হত না। সম্প্রতি ভুটানের পর্যটন মন্ত্রক জানায়, চলতি বছর থেকে জনপ্রতি ভারতীয়দের ২৫০ ডলার ( ১৭৫০০ টাকা ) লাগবে। একই ফি ধার্য করা হচ্ছে বাংলাদেশি ও মালদ্বীপ বাসিন্দাদের জন্য।

সরকারিভাবে ভুটান সরকার এখনও এই নিয়ম চালু না করেনি। যে কোনওদিন ঘোষণা করবে বলেই আশঙ্কিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা।