সুজয় পাল: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের রথতলা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি৷ তিন পাচারকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে৷ তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিনে পাচারের উদ্দেশ্য তিনটি কাঁচের জারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিষাক্ত সাপের বিষ৷

ফ্রান্স থেকে মায়ানমার-বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢুকেছিল ওই বিষ৷ ভারত থেকে নেপাল হয়ে চিনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিষভর্তি জারগুলি৷ কেন এত মূল্য সাপের বিষের, উদ্ধার হওয়া বিষ কোথায়, কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সাপের বিষ কী কাজে লাগে, বাজেয়াপ্ত হওয়া বিষ দিয়েও বা কি করা হয় তার খোঁজ নিল kolkata24x7.com

কেন বেশিরভাগ সাপের বিষ চিনেই যায়? সেখানে সাপের বিষ দিয়ে কী করা হয়?
সূত্রের খবর, শুধু ভারত নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাপথে বিষাক্ত সাপের বিষ পাচার হয় চিনে৷ সেখানে ওই বিষ দিয়ে মূলত ‘অ্যান্টি ভেনাম’ তৈরি করা হয়৷ সাপে কামড়ালে একমাত্র ‘অ্যান্টি ভেনাম’ প্রয়োগেই মানুষ প্রাণ ফিরে পায়৷ চিনের তৈরি এই ওষুধ উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় বিশ্ব বাজারে চাহিদা সবথেকে বেশি৷ তবে সেই ওষুধের সবথেকে বড় ক্রেতা আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশ৷ সেখানে সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিনে তৈরি ‘অ্যান্টি ভেনামে’র বেশিরভাগটাই কেনে তারা৷ তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সেই বিষ রফতানি হয়৷

ভারতেও কি চিনের তৈরি ওষুধ বিক্রি হয়?
সাপের বিষ দিয়ে তৈরি ওষুধ চিন থেকে ভারতে আসে না বললেই চলে৷ কারণ, এই ওষুধ তৈরিতে ভারত যথেষ্ট স্বনির্ভর৷ তাই এক্ষেত্রে ভারতের বাজার দখল করতে ব্যর্থ চিন৷

আর কী হয় সাপের বিষ দিয়ে?
জানা গিয়েছে, ‘অ্যান্টি ভেনাম’ তৈরির পাশাপাশি সাপের বিষ দিয়ে মারণরোগ ক্যান্সারের ওষুধও তৈরি হয়৷ ক্যান্সারের চিকিৎসায় যে কেমোথেরাপি প্রয়োগ হয়, তাও সাপের বিষ দিয়েই তৈরি৷ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র কেউটে এবং গোখরো সাপের বিষ দিয়েই কেমোথেরাপি তৈরি হয়৷ এই কারণেই বিশ্ববাজারে এই দুই প্রজাতির সাপের বিষের মূল্য কয়েক কোটি টাকা৷ সেজন্যই চোরাচালানকারীদের কাছেও মোটা টাকা লাভের উপায় সাপের বিষ পাচার করা৷

বাজেয়াপ্ত করা বিষ দিয়ে কী হয়?
সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চোরাপথ দিয়ে সাপের বিষ পাচার হয় চিনে৷ অনেকের ধারণা, উদ্ধার করা বিষ নষ্ট করা হয়৷ তা নয়,পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়লে বাজেয়াপ্ত হওয়া সাপের বিষ প্রথমেই নষ্ট করা হয় না৷ বিষ কোন সাপের, তার গুণগত মান কেমন ? এটা দেখার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে প্রথমে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়৷ বাকিটুকু সংরক্ষণ করে রাখা হয়৷ পরীক্ষাগার থেকে রিপোর্ট এলে ফের দেখা হয় যে সংরক্ষণ করে রাখা বিষের কার্যক্ষমতা একইরকম আছে কিনা৷ যদি দেখা যায় বিষের মান আগের মতোই রয়েছে, তাহলে সেই বিষ চলে যায় ওষুধ তৈরির জন্য৷ যদি গুণমত মান নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে নষ্ট করে দেওয়া হয়৷

আর কি হয় সাপের বিষ দিয়ে?
ওষুধ তৈরির পাশাপাশি নেশার দ্রব্য হিসেবেও ব্যবহার হয় সাপের বিষের৷ চিনে পাচার হওয়া সাপের বিষ সেই কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে৷