শ্রীনগর: মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকেই কাশ্মীরে এসএমএস পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের। চলতি বছরের ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়। জম্মু কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়। তৈরি হয় নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ভূস্বর্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে তৎপর হয় কেন্দ্র। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ধাপে ধাপে চালু হয় মোবাইল পরিষেবা। আর এবার চালু হচ্ছে এসএমএস পরিষেবাও। প্রায় ৫ মাস পর কাশ্মীরে চালু মোবাইল এসএমএস পরিষেবা।

নতুন বছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের হাসপাতালগুলিতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সেই পরিষেবাও আপাতত বন্ধ থাকবে। ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই অশান্তির আশঙ্কা করে কেন্দ্র। ভূস্বর্গ জুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। সেনা-জওয়ানে ঢেকে ফেলা হয় গোটা কাশ্মীর। কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আশঙ্কায় জারি করা হয় কার্ফু। কাশ্মীরে যে কোনওরকম সভা-মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। জমায়েত রুখতে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এককথায় স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা কাশ্মীরের স্বাভাবিক জনজীবন। ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার পর্যটন। বাইরে থেকে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় কাশ্মীরে। অশান্তির আশঙ্কায় কাশ্মীরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়।

বিদ্রোহ যাতে দানা বাঁধতে না পারে আগেভাগেই আটক বা গৃহবন্দি করে ফেলা হয় জম্মু কাশ্মীরের বহু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে। যদিও ধীরে ধীরে স্থিতাবস্থা ফিরতে শুরু করায় সোমবার ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পাঁচ জন নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও আটক রয়েছেন ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার পিছনে সরকারে যুক্তি, তাঁরা যাতে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে না পারেন, তার জন্যই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ কেন্দ্রের। অক্টোবরে মুক্তি দেওয়া হয় জম্মুর রাজনৈতিক নেতাদের। আটক করার দুমাস পরে তাঁদের মুক্তি হয়। তবে ধীরে ধীরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।