লখনউ: গত ১৫ বছরে রাহুল গান্ধী যা করেননি, করে দেখালেন স্মৃতি ইরানি৷ সাংসদ হয়েই আমেঠির মানুষের কাছাকাছি থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি৷ সেই লক্ষ্যেই উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে বাড়ি তৈরি শুরু হল তাঁর৷ নিজের বাড়ি থাকলে মানুষ সহজেই আসতে পারবেন নিজের সমস্যার কথা নিয়ে, এই ভাবনা থেকেই বাড়ি তৈরি করা শুরু করলেন স্মৃতি ইরানি৷

শনিবার স্মৃতি জানান, আমেঠি তাঁকে জিতিয়েছে, তার প্রতিদানে তিনি আমেঠির প্রাণের কাছাকাছি থাকতে চান৷ সেই জন্যই এখানে বাড়ি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি৷ গৌরিগঞ্জে ইতিমধ্যেই বাড়ির জন্য জমি দেখে ফেলেছেন স্মৃতি৷ রাজনৈতিক মহল বলছে, এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আমেঠির মানুষের আবেগকে ছুঁয়ে গিয়েছেন স্মৃতি৷ কারণ এই সিদ্ধান্ত গত ১৫ বছরেও নিয়ে উঠতে পারেননি রাহুল গান্ধী৷ দিল্লি থেকে এখানে বারবার এসেছেন, কিন্তু অতিথির মত৷ আমেঠি কোনওদিনই নিজের মত করে পায়নি কংগ্রেস সভাপতিকে৷

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা স্মৃতি ইরানির এই সিদ্ধান্ত আমেঠিকে পাকাপাকি ভাবে নিজের জায়গা পাকা করার জন্যই৷ শনিবার স্মৃতি ইরানি আমেঠির জন্য বেশ কিছু প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছেন৷ এদিনই অন্য ভূমিকায় দেখা যায় স্মৃতিকে৷

আরও পড়ুন : কিশোরীর চিকিৎসার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিলেন মোদী

শনিবার দু’দিনের জন্য আমেঠি আসেন স্মৃতি৷ লোকসভার ফল প্রকাশের পরই স্মৃতির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যু হয়৷ খবর পেয়ে আমেঠি ছুটে এসেছিলেন তিনি৷ মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্তকে নিয়ে এদিন ফের আসেন স্মৃতি৷ রাস্তায় এক অসুস্থ মহিলাকে দেখে কৌতুহল হয়৷ গাড়ি থেকে বেরিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন৷

স্মৃতিকে দেখতে রাস্তায় লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে৷ অনেকে মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করেন৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই মহিলাকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য তদারকি করছেন স্মৃতি৷ বাড়ির লোকদের দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ৷ এরপর তাদেরই একজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘কোথায় যাবেন? জেলা হাসপাতালে?’’ পরক্ষণেই গাড়ির চালককে নির্দেশ দেন, ‘‘গৌরিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এদের নিয়ে যাও৷’’

আরও পড়ুন : দেশ ভাঙার রাজনীতি করছেন মমতা, বিস্ফোরক কৈলাস

এরই পাশাপাশি, এদিন আমেঠির বারাউলিয়া গ্রামের প্রাক্তন প্রধান মৃত সুরেন্দ্র সিংয়ের বাড়িতেও যান স্মৃতি৷ এই সুরেন্দ্রকে গুলি করা হত্যা করা হয়েছিল৷ নিহত সুরেন্দ্র স্মৃতি ইরানীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই জানা যায়। স্মৃতি ইরানীর জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। আমেঠিতে স্মৃতির প্রচারে থাকতেন সুরেন্দ্র সিং।

পরিসংখ্যান বলছে ১৯৯৯ সালে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে নামেন সোনিয়া৷ স্বামীর কেন্দ্র আমেঠি থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ হন৷ পরে ২০০৪ সালে এই কেন্দ্রটি তিনি রাহুলকে ছেড়ে দেন৷ নিজে চলে যান রায়বেরিলিতে৷ ওদিকে ২০০৪ সাল থেকে লাগাতার আমেঠি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন রাহুল৷তবে ২০১৯ সালে শেষরক্ষা হল না৷