আমেঠি: বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নিজেকেই বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। বৃহস্পতিবার সমস্ত রাখঢাক ভেঙে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মৃতি স্বীকার করলেন শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক ডিগ্রিটুকুও নেই তাঁর।

উত্তরপ্রদেশের আমেঠি কেন্দ্র। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এবছর বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন স্মৃতি। এই প্রথম বার প্রকাশ্যে স্মৃতি স্বীকার করলেন তাঁর তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারেননি তিনি। এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে টালবাহানা করে বিভিন্ন রকমের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে প্রথম নির্বাচনে লড়তে ভোটের ময়দানে নামেন তিনি। দিল্লির চাঁদনী চক কেন্দ্র থেকে কপিল সিব্বলের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। তখন নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন কলা বিভাগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেছেন তিনি। ২০১১ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে লোকসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বি.কম পাশ।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার অমেঠি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন স্মৃতি। পরাজয় ঘটলেও তখন থেকেই স্মৃতি উঠে পরে লেগেছিলেন আমেঠিতে নিজের শিকড় গেড়ে বসার জন্য। এক্ষেত্রেও স্মৃতি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ। তিনি বলেন, ব্যাচেলর অফ আর্টস (দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়) ১৯৯৬ সালে সম্পন্ন করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে ১৬ এপ্রিলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়, তিনি ব্যাচেলর অফ কমার্স পার্ট ওয়ান দিয়েছেন স্কুল অফ ওপেন লার্নিং (দিল্লি ইউনিভার্সিটি) থেকে।

তাঁর বিরুদ্ধে এ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। চুক্তি হয় মিথ্যা এফিডেভিট অব্যাহতির জন্য এবং ছয় মাস পর্যন্ত জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। ২০ নভেম্বর আদালত তাকে আদালতে হাজির না হওয়ার জন্য ইসি এবং যোগ্যতার বিষয়ে রিপোর্ট চায়। তিনি বলেন, ” আদালত অবস্থান নিতে ব্যর্থ। “

অভিযোগের শুনানি চলাকালীন, আদালত এক পোল প্যানেল কর্মকর্তাকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিপত্র পেশ করতে নির্দেশ দেয়। এছাড়াও আদালতের আগের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় দায়ের করা একটি হলফনামার মাধ্যমে তার উল্লেখ করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি এফিডেভিট-এর মাধ্যমে বিএ কোর্সের নথি জমা দিতে বলে। ২০১৬ সালে দিল্লি আদালত বলে, স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভুয়ো। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হারভিন্দর সিং বলেন, মূল প্রমাণ বছরের পর বছর ধরে হারিয়ে গেছে, মাধ্যমিকের তথ্যপ্রমাণ আদালতে যথেষ্ট ছিল না । ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, ‘ ইরানি বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে অভিযোগকারীর ১১ বছরের ‘ বিলম্ব ‘ কে ‘ কালক্ষেপণ ‘ করতে হয়েছে।

স্মৃতি ইরানি কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলকে তার শিক্ষা বিষয়ক তথ্য প্রদানের জন্য চ্যলেঞ্জ জানিয়েছিলেন। আহমেদ খান দু বছর আগে এই অভিযোগ নিয়ে একটি পিটিশন দায়ের করেন। দিল্লি আদালত এই মামলা খারিজ করে দেয়। যাতে বলা হয়েছে, ” স্মৃতিকে হয়রানি করাই তাঁর উদ্দেশ্য “।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন বিজয়ী অঙ্কিব বাসয়া বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হওয়ার জন্য নকল ডিগ্রি ব্যবহার করেছিলেন স্মৃতি। কিন্তু অবশেষে বৃহস্পতিবার কোন প্রমাণ দেখাতে না পেরে স্মৃতি স্বীকার করে নেন, ১৯৯৪ সালে ভরতি হলেও কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারেননি তিনি।