লখনউ: দীর্ঘ দিনের বিজেপি শাসনের শেষে মধ্যপ্রদেশের মসনদ দখল করেছে কংগ্রেস। ক্ষমতায় আসতেই ওই রাজ্যে কালো টাকা মজুত করেছে শাসক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্ত্যিরা। লোকসভা নির্বাচনের মুখে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্য করলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি।

আরও পড়ুন- নির্বাচনের আগে উদ্ধার ২৮১ কোটি, মধ্যপ্রদেশে চাপে কংগ্রেস সরকার

আয়কর দফতরের তল্লাশি ঘিরে রীতিমতো বেকায়দায় সেরাজ্যের কংগ্রেস সরকার৷ ইতিমধ্যেই ২৮১ কোটি টাকার নথিহীন অর্থ উদ্ধার হয়েছে৷ গত রবিবার থেকে শুরু করে টানা তিন দিন ধরে ওই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চালানো হয়েছে তল্লাশি অভিযান৷ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা৷

গত তিন দিন ধরে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা, যেমন ইন্দোর, ভোপালের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলেছে৷ দিল্লিতে কোনও বড় রাজনৈতিক দলের সদর দফতরে এই অর্থ পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে সূত্রের খবর৷

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন মোদীর মন্ত্রী স্মৃতি। তিনি বলেছেন, “এখনও ছয় মাসও হয়নি ওই রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। এরই মাঝে শুধু সচিবদের বাড়ি থেকেই বিপুল কালো টাকা উদ্ধার হয়েছে। তাহলে ভাবুন, এদের নেতৃত্বে আরও কত কালো টাকা পাচার হতো।”

মঙ্গলবার তল্লাশি করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি প্রবীণ কক্কড়ের ঘনিষ্ঠ অশ্বিন শর্মার বাড়িতে৷ গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়ি থেকে ১০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে৷ পাওয়া গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি৷ সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ অশ্বিন শর্মা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মালিক৷ তার কাছে এত টাকা কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন- অধরা বিকাশ, রাস্তা ও জলের সঙ্কটে ভুগছে মোদীর রাজ্যের গ্রাম

শুধু অশ্বিন শর্মা নয়, প্রবীণ কক্কড়ের ছেলে সলিলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ কারণ কক্কড়ের বেসিরভাগ কোম্পানি সলিলের নামে৷ তবে গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন কক্কড়৷ তাঁর দাবি এটা আয়কর দফতরের নয়, রাজনৈতিক তল্লাশি৷ আধিকারিকরা কোনও আপত্তিজনক নথি বা গয়না উদ্ধার করতে পারেননি৷ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনও সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারেনি তারা৷ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন৷