ধরমশালা (হিমাচলপ্রদেশ): জ্বলছে হিমাচল প্রদেশের একাংশ৷ জ্বলছে বনাঞ্চল৷ ঘন ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা৷ গত দুদিন ধরে এই দাবানল শুরু হয়েছে৷ কিন্তু ঘন বনের ঠিক কোথায় আগুনের উৎস, তা খুঁজতে রীতিমত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দমকলকর্মীদের৷ গোটা জেলার অধিকাংশ এলাকাই ঘন বনাঞ্চলে ঢাকা৷ ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে৷

ঘন বনের মধ্যে দিয়ে দমকলকর্মীদের লড়তে হচ্ছে৷ একদিকে কালো ধোঁয়ায় যেমন দমকলকর্মীদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে, তেমনই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাও সমস্যা তৈরি করছে৷ বনের মধ্যে দিয়ে জলের অভাব ও রাস্তা না থাকার অভাবে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে দমকলকর্মীদের৷

আরও পড়ুন : উড়ানের জন্য তৈরি হচ্ছে চন্দ্রায়ন ২, ছবি প্রকাশ ইসরোর

কাংড়ার ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার প্রজাপতি জানান, রাস্তার অভাবের সবথেকে বেশি সমস্যা রয়েছে৷ বেশিরভাগ এলাকাতেই পাকা রাস্তা নেই, ফলে বড় বড় জলের গাড়ি আটকে পড়ছে৷ তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে৷ সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ বন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে৷ বনাঞ্চল এলাকায় পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সতর্ক করা হয়েছে স্থানীয় মানুষকেও৷

এদিকে শুধু হিমাচল প্রদেশ নয়, মে মাসের শেষের দিকে দাবানল শুরু হয় উত্তরাখণ্ডেও৷ উত্তরকাশীর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হেক্টর হেক্টর জমি৷ আগুন ক্রমশ ছড়াতে শুরু করে৷ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে ১৬৫টি দমকলের ইঞ্জিন৷ তবে বিশেষ লাভ হয়নি৷ ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সন্দীপ কুমার জানান, ২৫০ জন কর্মী নিরন্তর কাজ করেছিলেন৷ কিন্তু আগুন বাগে আনা যায়নি৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশও৷ অগ্নিকাণ্ডের উৎসস্থলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন৷ ২৫ হেক্টর জমি বাঁচানো সম্ভব হয়৷

আরও পড়ুন : গডসে-প্রজ্ঞারা মাদ্রাসার নয়, লোক দেখানো কাজ বিজেপির: আজম খান

আলমোড়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়৷ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷ পরিসংখ্যান বলছে ১৩ই মে পর্যন্ত ৭৬টি দাবানলের কারণে আলমোড়া জেলার মোট ১৮৯.২৫ হেক্টর জঙ্গল এলাকা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে৷ ধ্বংসের মুখ দেখেছে নৈনিতালও৷ অন্যদিকে ১৭০টির মতো দাবানলের ঘটনায় নৈনিতালের প্রায় ১৬৮.২৮ হেক্টর জমি ধবংস হয়ে গিয়েছে।

৭০টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে তেহরি গারওয়ালে, ছম্পাওয়াতে ৬০টি, পাউরি গারওয়ালে ৬৮টি, দেরাদুনে ৩৪টি, পিথোরাগড়ে ২৭টি, রুদ্রপ্রয়াগে ২৬টি, বাগেশ্বরে ২০টি, চামোলিতে ১৫টি, হরিদ্বারে ১৩টি, উত্তরকাশীতে ১২টি ও উধাম সিং নগরে ৪টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। ১২ই মে অবধি প্রায় ৫৯৫ বার আগুন লেগেছে উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে৷ তেহরি গাড়ওয়াল দেখেছে ৭০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা৷