নয়াদিল্লি: সকালে বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল দিল্লিতে। এই বৃষ্টির ফলে বিষ বাতাস থেকে রেহাই মিলতে পারে বলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন দিল্লিবাসী। কিন্তু, দূষণের পরিমানে তেমন কিছুই হেরফের ঘটল না রাজধানীতে। সকাল থেকেই ধোঁয়াশায় মুখ ঢেকেছে দিল্লি। দূষণ রোধে সোমবার সকাল ৮ টা থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় নীতির কথা ঘোষণা করেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কেউ যাতে নিয়ম লঙ্ঘন না করতে পারেন, তা নজরে রাখার জন্য ২০০ জনের ট্র্যাফিক পুলিশের একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রায় পাঁচ হাজার সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যে সব গা়ড়ির নম্বরের শেষ সংখ্যা ১,৩,৫,৭,৯, সেই গাড়িগুলোকে ৪, ৬, ৮, ১২ এবং ১৪ নভেম্বর রাস্তায় বেরনোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আবার ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩ এবং ১৫ নভেম্বরে ০, ২, ৪, ৬, ৮ সংখ্যার গাড়িগুলো রাস্তায় নামানো যাবে না বলেই নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। শুধুমাত্র ১০ নভেম্বর অর্থাৎ রবিবারে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি পাবেন দিল্লিবাসীরা। জোড়-বিজোড়ের এই নিয়ম চলবে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। নিত্যযাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বাড়তি চাপ সামলাতে এ ক’দিন ৬১টি অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। রাস্তায় যাতে নিত্যযাত্রীদের অসুবিধা না হয় সেক্ষেত্রে ৫০০টি অতিরিক্ত বাস নামিয়েছে দিল্লি সরকার।

এর মাঝেই জোড়-বিজোড় নীতির বিরোধিতা করে বিজেপি নেতা বিজয় গোয়েল গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ফাইন করে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ।

দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া জোড়-বিজোড় নিয়ম প্রসঙ্গে জানান, ‘শস্যের গোড়া পোড়ানোর ফলে পুরো উত্তর ভারতকে গ্রাস করেছে ধোঁয়া। এই মুহূর্তে আমরা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারছি না। তবে জোড়-বিজোড় নিয়ম যদি আগামী ১০ দিন মেনে চলা যায়, তা হলে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলতে পারে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে। সকলের কথা ভেবেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।’ গাড়ির বদলে, সিসৌদিয়া এ দিন কাজে যান সাইকেল চেপে। দূষণ রোধে মন্ত্রীর অভিনব ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।
অন্য দিকে অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী অবরবিন্দ কেজরিওয়াল এ দিন তাঁর সরকারি গাড়ির বদলে জোড়-বিজোড়ের নিয়ম মেনেই ভাড়ার গাড়ি করে নিজের দফতরে গিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

দূষণ প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমরা যে ভাবে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় পেয়েছি, দূষণকেও সে ভাবে পরাস্ত করব।’ তবে শুধু দিল্লি উত্তর ভারতের এই দূষণের বিরুদ্ধে একা লড়তে পারবে না। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আর্জি জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারিও দেন, এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনও ট্যাক্সি অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

দূষণ থেকে রাজধানিকে বাঁচাতে ১লা নভেম্বরই দিল্লিজুড়ে ‘হেলথ ইমারজেন্সি’ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি অঞ্চলের সমস্ত নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। স্কুল ছুটির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গোটা শীতকাল জুড়ে বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রেও জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। এত কিছুর পরেও দূষণ কমার কোনও লক্ষণই দেখা যায়নি রাজধানীতে।

বাতাসে দূষণের পরিমাপক সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে রবিবার দিল্লির কোনও কোনও এলাকায় বাতাসে দূষণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৯৯৯। রবিবার রাজধানীর একাধিক জায়গায় যেমন বাওয়ানা, জাহাঙ্গিরপুর, রোহিণী, সোনিয়া বিহার, শাহদরা, ওখলা, মেজর ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়াম, আনন্দ বিহার, পাঞ্জাবি বাগ, পুসা, মন্দির মার্গ, মুণ্ডকা, শ্রীনিবাসপুরী এবং জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি একিউআই ৯৯৯ ছাড়িয়ে যায়। এই দূষণের সূচক ছিল গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও