পারথ: অস্ট্রেলিয়ার চারশো প্লাস রানের জবাবে ১ রানে দুই উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড তখন তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ২৩তম ওভারে ৩৪ রানে তখন ক্রিজে অনেকটাই থিতু হয়ে উঠেছেন কেন। কিন্তু ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে মিচেল স্টার্কের শর্ট আউটস্যুইংটা কিউয়ি অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে ধরা পড়ল দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো স্টিভ স্মিথের হাতে।

তবে এক্ষেত্রে ধরা পড়ল বলা ভুল, বরং বলা ভালো স্টার্কের ডেলিভারিটা কেনের ব্যাটে লেগে ঠিকরে উইকেটের পিছনে আসতেই শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে সেটা তালুবন্দি করলেন স্টিভ স্মিথ। তাজ্জব ধারাভাষ্যকর থেকে পারথের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা। ১৪১ কিমি বেগে ধেয়ে আসা স্টার্কের ডেলিভারি কেনের ব্যাট ছুঁয়ে আসতেই দ্বিতীয় স্লিপ থেকে ঝাঁপিয়ে থার্ড স্লিপের ক্যাচ তালুবন্দি করেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। ইদানিং স্লিপে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ ধরা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন স্মিথ। শুক্রবারের এই বিশ্বমানের ক্যাচ সেই তালিকায় নয়া সংযোজন। অল্প সময়ের মধ্যেই স্মিথের সেই ক্যাচ গিফ হিসেবে নিজেদের টুইটার পেজে পোস্ট করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

মার্নাস ল্যাবুশেনের ১৪৩, ট্রেভিস হেডের অর্ধশতরানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪১৬ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে জোস হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্কের ধাক্কায় ১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে খুঁইয়ে বসে কিউয়িরা। ১ রানে ফেরেন জিত রাভাল। রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন টম ল্যাথাম। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৭৬ রানের মূল্যবান পার্টনারশিপ গড়েন কেন-টেলর জুটি। অবশেষে স্মিথের দুরন্ত ক্যাচে ইতি ঘটে কিউয়ি অধিনায়কের ইনিংসের। দ্বিতীয়দিন দ্বিতীয় সেশনের শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৩ উইকেটে ৭৭।

এরপর হেনরি নিকোলসও দু’অঙ্কের রানে পৌঁছতে ব্যর্থ হন। মাত্র ৭ রানে আউট হন তিনি। স্টার্কের ধাক্কায় শূন্য রানে ফেরেন নীল ওয়্যাগনার। উল্টোদিকে ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রস টেলর। দিনের শেষে ৬৬ রানে অপরাজিত তিনি। শূন্য রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয়দিন সকালে টেলরের সঙ্গে ব্যাটে নামবেন উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং। দ্বিতীয়দিনের শেষে নিউজিল্যান্ডের রানসংখ্যা ৫ উইকেটে ১০৯। বিধ্বংসী স্টার্কের ঝুলিতে ৪ উইকেট। তবে ১ উইকেট পেলেও ১.২ ওভার বল করার পর মাঠ ছেড়ে দলের চিন্তা বাড়ালেন হ্যাজেলউড।

এর আগে দ্বিতীয়দিন সকালে প্রথম ইনিংসে ১৬৮ রান যোগ করে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। দেড়শত রান থেকে মাত্র ৭ রান দূরে আউট হয়ে একটি নজির হাতছাড়া করেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার ল্যাবুশেন। বিশ্বের তৃতীয় টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিনিটি টেস্ট ইনিংসে ১৫০ বা তার বেশি রান গড়ার নজির হাতছাড়া করেন তিনি।