তেলেঙ্গানা: হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্তের জন্য কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মোড়া জেলের ভিতরে রয়েছে এলাহি খাবারের আয়োজন। দুপুরের লাঞ্চে ডাল-ভাত হলে রাত্রে তাদের জন্য বন্দোবস্ত করা হচ্ছে গরম গরম ভাত আর সঙ্গে মাটন কারির মতো পদের এলাহি আয়োজন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এমনই তথ্য উঠে এসেছে দেশবাসীর সামনে। যা নিয়ে রীতিমত ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রতিবাদে সবর হয়েছে নেটিজেনরা।

যুবতী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্ত হল, মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন এবং চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলু। এদের মধ্যে ধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হল ট্রাক ড্রাইভার মহম্মদ আরিফ(২৫)। ঘটনার একদিন পর সাইবেরাবাদ পুলিশ অভিযুক্তদের নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে চার অভিযুক্তই রয়েছে, চেরাপাল্লির একটি জেলে।

সর্বভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তারা জেলের ভিতর বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। তিনি আরও জানান, জেলের খাবারের রুটিন অনুযায়ী অভিযুক্তদের দুপুরে ডাল ভাত এবং রাতে মাটন কারী খেতে দেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে ওই তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং তারপর খুন করা হয়। পরে অভিযুক্তেরা তার দেহটি ফেলে দেয়
হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়কের কাছে সামেশাবাদের কাছে ছাতনপল্লির একটি সেতুর ধারে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা বাদেই ওই সেতুর নীচ থেকে তরুণীর মৃত দেহ উদ্ধার করে সাইবেরাবাদ পুলিশ। ঘটনার একদিন পরই নারায়ণপেটা জেলায় গ্রামের বাড়ি থেকে ধরা পরে অভিযুক্তেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ নভেম্বর অর্থাৎ বুধবার রাত ৯টার সময় ওই তরুণী যখন ক্লিনিক থেকে ফিরছিল তখন মাঝপথে তাঁর স্কুটিটি খারাপ হয়ে গেলে বোনের পরামর্শ মত সে টোল প্লাজার সামনে আসে। সেই সময় ওই টোলপ্লাজার ওখানে উপস্থিত ছিল তিন অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে একজন ওই চিকিৎসকের গাড়ির টায়ার পাংচার করে দেয়। এবং আরেক অভিযুক্ত তাঁকে সাহায্যের কথা বলে তাঁর গাড়িটি নিয়ে কাছাকাছি দোকান খুঁজতে থাকে। কিন্তু ফিরে এসে অভিযুক্ত ওই তরুণীকে জানায় সব দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

তারপরই শুরু হয় ওই তরুণীর উপর নারকীয় অত্যচার। অভিযুক্ত চার যুবকের মধ্যে তিনজন ওই তরুণীকে টানতে টানতে টোল গেটের কাছে ঝোপের ধারে নিয়ে যায়। সেখানেই তাদের সঙ্গে ধর্ষণে যোগ দেয় অপর এক অভিযুক্ত। তারপরই বন্ধ করে ফেলা হয় ওই তরুণীর মোবাইল ফোনটি। এবং ওই পশু চিকিৎসক যাতে কোনও ভাবে চিৎকার করতে না পারে সেই জন্য মুখ বন্ধ রাখতে চার অভিযুক্ত মিলে জোর করে তাঁর মুখে মদ ঢেলে দেয়। তারপরই শুরু হয় পশু চিকিৎসক তরুণীর উপর চারজনের নারকীয় অত্যাচার।