ওয়াশিংটন: মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সেনা অফিসার জেনারেল কাসিম সোলেমানির। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই এয়ারস্ট্রাইক হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। সোলেমানির মৃত্যু নিয়ে উত্তাল গোটা বিশ্ব। ইরানের এই ক্ষমতাশালী অফিসারের মৃ্ত্যু কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প বললেন, দিল্লিতেও সন্ত্রাসের ছক কষেছিলেন এই সোলেমানি।

ওই ঘটনার পর ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসর্টে বসে ট্রাম্প বলে, ‘নিরপরাধ মানুষকে মারার এক অদ্ভুত নেশা ছিল সোলেমানির। এমনকি দিল্লি এবং লন্ডনেও কষা হয়েছিল সন্ত্রাসের ছক।’

শুক্রবার বাগদাদ এয়ারপোর্টে এক মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে সোলেমানি সহ বেশ কয়েকজন ইরানি সেনা অফিসারের মৃত্যু হয়। আর এরপরই ট্রাম্প বলেন, ‘সোলেমানির একের পর এক হামলায় আক্রান্তদের সম্মান জানাই। আজ এটা ভেবে স্বস্তি মিলছে যে সোলেমনির সন্ত্রাসের দিন শেষ হয়েছে।

যদিও ভারতে ঠিক কোন সন্ত্রাসের ঘটনায় সোলেমানির হাত ছিল, তা বর্ণনা করেননি ট্রাম্প। তবে মনে করা হচ্ছে, ২০১২ তে ভারতে ইজরায়েলি কূটনীতিকদের উপর যে হামলা হয়েছিল, তার কথাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গাড়ির সঙ্গে বোমা লাগানো ছিল। আর সেই বোমাতেই আহত হন ইজরায়েলি আধিকারিক। জখম হন চালক সহ আরও দু’জন। ইজরায়ালের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে ইরান ওই হামলা চালিয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি কখনও ইরানের হাত থাকার প্রমাণ দেয়নি বা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে দোষারোপও করেনি।

ঘটনার সময়ে জানা গিয়েছিল যে, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী মোস্তাফা আহমোদি রোশনকে বোমা হামলায় মারা হয়েছিল গাড়ির সঙ্গে ম্যাগনেট দিয়ে আটকানো ছিল বোমা। সেই হামলা ইজরায়েল করেছিল বলেই সন্দেহ ছিল ইরানের। আর তারপরই ঠিক একই কায়দায় দিল্লিতে এই হামলা হয়েছিল।

সোলেমানি নিছক একজন সেনা অফিসার ছিলেন না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কি ভূমিকা নেবে, তার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সোলেমানি। বিবিসি জানাচ্ছে, দেশটির বিদেশমন্ত্রীর ভূমিকা তিনিই কার্যত পালন করতেন। বিশেষত যুদ্ধ কিংবা শান্তির ক্ষেত্রে তিনিই শেষ কথা। বলা হয়, সিরিয়ার যুদ্ধের কারিগরও নাকি তিনি। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেজর জেনারেল সোলেমানি।

১৯৯৮ সাল থেকে মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানি ইরানের কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডসের এই অভিজাত বাহিনীটি দেশের বাইরে কভার্ট অপারেশন চালিয়ে থাকে। আগে গোপনেই থেকেই কাজকর্ম চালাতেন সুলেমানি। পরে তাঁকে একের পর এক খবর ছাড়াও তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র। এমনকি পপ গানেও জায়গা পেয়েছেন ইরানের এই ‘হিরো’।