স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় বিজেপির বিরুদ্ধে একটা অভিযোগে সরব৷ তা হল ধর্মের নাম করে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করছে বিজেপি৷ আর এদিন স্কাই ওয়াকের উদ্বোধনে গিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সেই একই ইস্যুতে সরব হলেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সোমবার দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণি স্কাই ওয়াকের উদ্বোধনে গিয়ে নাম করে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন ‘‘কিছু মানুষ ধর্মের কথা বলে, কিন্তু আদপে ধর্মের জন্য এক ইঞ্চিও কাজ করে না৷’’

আরও পড়ুন: বিশেষ জুতোয় দৌড় শুরু স্বপ্নার

স্কাই ওয়াকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আগাগোড়া হিন্দুত্বের বাণী আওড়াতে শোনা যায়৷ বিজেপিকে ঠুকতে গিয়ে এদিন তিনি সাধু-সন্তর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘গেরুয়া পরলেই সাধু হওয়া যায় না৷ মনটা সাধুর মতো হওয়া চাই। যাদের মধ্যে ত্যাগ, তিতিক্ষা থাকে শুধুমাত্র তারাই সাধু৷ কিন্তু এরা খায়, দায় ঘুরে বেড়ায় আর ভাষণ দেয়। এরা এনজয় করে বেড়াবে আবার গেরুয়া পরবে। একটা সচ্চা গেরুয়া আর একটা ঝুটা গেরুয়া”।

এদিন তাঁর শিকাগো সফর বাতিল হওয়া নিয়েও বিজেপিকে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় স্বামী বিবেকানন্দের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ কিন্তু হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রীর সেই সফর বাতিল হয়৷

আরও পড়ুন: মৃত স্বামীর পুনর্জন্ম চেয়ে চিঠি দিলেন লক্ষ্মী পার্বতী

অভিযোগ, শিকাগোয় মমতার বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখায় কিছু অনাবাসী ভারতীয়। রামকৃষ্ণ মিশনকেও চাপ দেওয়া হয়৷ এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বামী বিবেকানন্দ যেখানে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হল না। কেন আমরা কি বাণের জলে ভেসে এসেছি? নির্দিষ্ট কেউ কেউই হিন্দু ধর্ম করবে৷’’

৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে এদিন ভারতবর্ষের প্রথম স্কাই ওয়াক উদ্বোধন হয় দক্ষিণেশ্বরে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যার শুভ উদ্বোধন করেন৷ স্কাইওয়াকটির দৈঘ্য ৩৪০ মিটার, চওড়ায় ১০.৫ মিটার। রয়েছে ১২টি এসকেলেটর, ৮টি সিঁড়ি ও ৪টি লিফট।

আরও পড়ুন: সাধক কমলাকান্তের সমাধির ওপর তৈরি এই কালী মূর্তি

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে ফায়ার এলার্ম ও ওয়াটার স্পিঙ্কলার৷ সর্বক্ষণের জন্য থাকছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি৷ গোটা স্কাইওয়াকটি মুড়ে ফেলা হয়েছে থ্রি-ডি আলোয়৷ স্কাইওয়াকের ভেতরে তাকছে মোট ২০০টি দোকান৷ দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে নেমে দর্শনার্থীরা সরাসরি স্কাই ওয়াকে উঠে পুজোর জিনিসপত্র কিনে মন্দিরে ঢুকতে পারবেন৷

নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্ক প্রসূত ও তাঁর স্বপ্নের এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে পেরে তিনিই সত্যিই গর্বিত৷’’ স্কাইওয়াকের ফলে একদিকে যেমন দক্ষিণেশ্বরের দর্শনার্থীদের সুবিধে হবে, তেমনই ডানলপের ব্যস্ত রাস্তার যানজটও কমে যাবে।

আরও পড়ুন: চিনকে ঠেকাতে ডিসেম্বরেই ভারত থেকে ট্রেন যাবে নেপালে

তবে শুধু দক্ষিণেশ্বরই নয়, ধীরে ধীরে সমস্ত শক্তিপীঠগুলিতে সাধারণের সুবিধার জন্য যাতে এই ধরণের ব্যবস্থা করা যায় সে কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী৷