হাওড়া: মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় পিছিয়ে নেই হাওড়া৷ ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে হাওড়া জেলাকে মেধা তালিকায় রাখল অঙ্কন চক্রবর্তী৷ তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৫৷ এবার মাধ্যমিকে তার ভালো ফলের আশা থাকলেও এতটা ভালো ফল হবে আশা করনি অঙ্কন৷

বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। ডাক্তার হয়ে সে গরীব মানুষের সেবা করবে বলে আশা প্রকাশ করে। মেডিকেল নিয়ে পড়ার ইচ্ছে রয়েছে তার। মঙ্গলবার সকালে আন্দুলের মৌড়ি রথতলার ভট্টাচার্য পাড়ায় নিজের বাড়িতে বসে এমনটাই জানায় অঙ্কন। আন্দুল মহিয়াড়ি কুণ্ডু চৌধুরী ইন্সটিটিউশনের ছাত্র সে৷

আরও পড়ুন: অভাবকে পিছনে ফেলে সফল বাঁকুড়ার নির্বেদ

এদিন সকাল থেকেই ছেলের সাফল্যে খুশির হাওয়া চক্রবর্তী পরিবারে। সকাল থেকেই অঙ্কনকে শুভেচ্ছা জানাতে পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সকলের ভিড় বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। বাড়ির পাশের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করার পর পঞ্চম শ্রেণী থেকে মহিয়াড়ি কুণ্ডু চৌধুরী ইন্সটিটিউশনে পড়াশোনা করে সে।

স্কুলে পড়াকালীন প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান দখল করে এসেছে এই ছাত্র। আর সেই ধারাকে বজায় রেখে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই সাফল্য মিলল তার। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে অঙ্কনের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৫-এর মধ্যে বাংলা- ৯৮, ইংরাজি- ৯৯, অংক- ১০০, ভৌত বিজ্ঞান- ৯৯, জীবন বিজ্ঞান- ৯৩, ইতিহাস- ৯৯, ভূগোল-৯৭।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা না করত না৷ কিন্তু সময় ভাগ করে নিয়ে পড়াশোনা করত অঙ্কন। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে সে।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মাধ্যমিকে সফল ওরা

এদিকে, ছেলের এই সাফল্য সম্পর্কে অঙ্কনের মা সর্বানী চক্রবর্তী ও বাবা অক্ষয় চক্রবর্তী জানান, ছোটবেলা থেকে ছেলের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমাদের আশা ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষায় অঙ্কন ভালো ফল করবে। পড়াশোনার পাশাপাশি কার্টুন দেখা ও হাতের কাজ তৈরি করাটা তার ছেলের নেশা বলে জানান অঙ্কনের বাবা মা।

অঙ্কনের মা সর্বাণী বলেন, এই খবর পেয়ে ভীষণই আনন্দ হচ্ছে। ছেলে স্কুলে প্রতি বছরই প্রথম হত। মাধ্যমিকে এত ভালো ফল হবে বুঝতে পারিনি। টিভি দেখে খবর জেনেছি। ও স্কুলে টেস্ট পরীক্ষায় ৬৬৯ পেয়েছিল। বিজ্ঞান পড়তে ভালোবাসে। মেডিকেল নিয়ে পড়তে চায়। জয়েন্টে বসবে। ওর সকল বিষয়ে জানার খুব আগ্রহ রয়েছে। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। ঠাকুমা আরতি চক্রবর্তী বলেন, আমরা খুবই গর্বিত। ছোট থেকেই ও খুব মেধাবী ছিল। ও বড় হোক। সকলকে দেখুক। সেটাই চাই।