ইটানগর: চলতি মাসের শুরুতেই, ৩ জুন মাঝ আকাশেই নিখোঁজ হয়ে যায় বায়ুসেনার AN-32 বিমানটি। অসমের জোরহাট থেকে অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এএন-৩২। অরুণাচলের সিয়াং জেলার পায়ুম সার্কেলের কাছে ওই এয়ারক্রাফটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়৷

ভেঙে পড়া এই বিমানের ব্ল্যাক বক্সও বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কীভাবে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, বা কীভাবে বিমানটি ভেঙে পড়ে, সে সম্পর্কে তথ্য কতটা মিলবে, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়৷ তবে খবর পেয়েও উদ্ধার কার্যশুরু হয়৷ তবে দুর্ঘটনাস্থল পার্বত্য এলাকা হওয়ায় এবং সেই সঙ্গে খারাপ আবহাওয়া থাকায় সেই কাজ ব্যহতও হয়৷

শিলঙে বায়ুসেনার মুখপাত্র উইং কমান্ডার রত্নাকর সিং জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য উদ্ধারকার্য বারবারই ব্যহত হয়েছে৷ বিভিন্ন উপায়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা বারবারই ব্যহত হয়েছে৷ এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার এই উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়৷ গরুঢ় কমান্ডো, স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এই কাজে যুক্ত থাকলেও পরিস্থিতির কারণে সবকিছু থমকে যায়৷ বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনাস্থল থেকেই বিমানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

পড়ুন: ‘এটাই হয়তো আমার শেষ ছবি’, পরিবারকে হোয়াটস্অ্যাপে জানিয়েছিলেন শহিদ মেজর কেতন

প্রসঙ্গত, ৩ জুন এমআই-১৭ চপার অরুণাচল প্রদেশের লিপো এলাকায় নিখোঁজ বায়ুসেনা বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়৷ অরুণাচলের সিয়াং জেলার পায়ুম সার্কেলের কাছে ওই এয়ারক্রাফটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ এয়ার ফোর্সের Mi-17 চপার থেকেই প্রথম পড়ে থাকা ওই অংশগুলি দেখা যায়৷ প্রথম থেকে খোঁজ চালাচ্ছিল সুখোই Su-30 ও C-130J বিমান। আর্মি, নেভি ও আইটিবিপি যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। রাতেও নাইট-টাইম সেন্সর ব্যবহার করে চলে সার্চ অপারেশন। খারাপ আবহাওয়া থাকা সত্বেও অনবরত চলছিল খোঁজ। তিন বছর আগে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার পথে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল আরও একটি এএন-৩২ বিমান। যার খোঁজও আজও মেলেনি।