বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান): দশটি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রভাবে বর্ধমান শহরের ছবিটা দু-রকম। কোথাও দোকান খোলা তো কোথাও পুরোপুরি বন্ধ। তবে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে ব্যাংক ও বিমা সংস্থাগুলিতে। সব বেসরকারি ব্যাংকেও কাজ বন্ধ।

সকালেই ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিং চলছিল। বর্ধমান শহরের সিন্ডিকেট ব্যাংকের সামনে থেকে পুলিশ দুই মহিলা সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করল।এই ঘটনায় চাঞ্চল্য় ছড়ায়।

শহরের সবথেকে জনবহুল এলাকা কার্জনগেট সংলগ্ন দত্ত সেন্টার লাগোয়া ব্যবসায়িক কেন্দ্রে যে কটি ব্যাংক রয়েছে সবকটি বন্ধ। বিভিন্ন দোকানের সামনে ব্যাংক কর্মীরা জড় হয়েছেন। তাঁদের পিকেটিং থেকে রাজ্য সরকারের প্রবল সমালোচনা করা হয়।

বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটের ইস্যু সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরকার ধর্মঘট সমর্থন হবে না বলেই জানিয়েছেন।

ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি শহরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিসি রোড এলাকায়। আবার শহরের অফিসপাড়া বলে পরিচিত কোর্ট এলাকায় প্রভাব পড়েছে ধর্মঘটের। জিটি রোড সহ বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল করছে।

বর্ধমান জংশন স্টেশনে সম্প্রতি একটি অংশ ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনার পর লোক চলাচল এমনিতেই বিঘ্নিত। তার উপর ধর্মঘটীদের রেল রোকোর জেরে সকালের দিকে বেশকিছু ট্রেন আটকে পড়ে। এতে আরও বিপর্যস্ত হয় স্টেশন এলাকা।

অভিযোগ,স্থানীয় বিজেপি সাংসদ এত বড় দুর্ঘটনার পরেও আসেননি। এর জেরে বিজেপি নেতৃত্ব ব্যাক ফুটে। সেই ঘটনাকেও ইস্যু করেছেন ধর্মঘট সমর্থনকারীরা।

শহরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী তথা দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মেনেই বামদের ধর্মঘটের ইস্যু সমর্থন করছি। তবে জনজীবন সচল রাখতে পাল্টা প্রচার মিছিল করা হয়েছে।