প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: তিনদিন পর আজও থমথমে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া এলাকা৷ শুধু মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে ভারী বুটের শব্দ৷ জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা৷ তার মধ্যে যেন আগুনে ঘি ঢালছে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য৷ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ব্যবসায়ীদের৷ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক৷ ভাটপাড়ায় কবে ফিরবে শান্তি,সেদিকেই তাকিয়ে সবাই৷

রবিবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, ভাটপাড়া এলাকা জুড়ে চলছে পুলিশি টহল৷ দোকানপাট ছিল বন্ধ৷ হাতে গোনা দুই একটা দোকান খোলা রয়েছে৷ রাস্তাঘাটে খুব জরুরি কাজ না থাকলে মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন৷ শুধু ভাটপাড়া এলাকায় বিগত দু’মাসে অশান্তি ও গুলি, বোমার সংঘর্ষে বেসরকারি হিসেব অনুসারে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনেরও বেশি। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১০জন৷ এরমধ্যে বেশ কয়েকজন নিরীহ সাধারণ মানুষও রয়েছে৷ দোকান খোলতে না পেরে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা৷ তাই তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন৷ এদিন পুরসভায় পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে৷ ভাটপাড়ার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন৷ এলাকায় যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে৷ সমস্যায় পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ,স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা৷ নিরাপত্তার কারণে স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের পাঠাচ্ছেন না তাদের অভিভাবকরা। পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছে৷বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, যে কোন মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এলাকায়৷ বলা যায় আতঙ্কের একটি শহরের নাম ভাটপাড়া৷ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন রাস্তায় চলছে নাকা চেকিং। তবুও মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কাটছে না৷

কাঁকিনাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, যা পরিস্থিতি তাতে তারা দোকান খুলতেই ভয় পাচ্ছেন। কখন বোমা পড়বে তার কোন নিশ্চয়তা নেই৷ কাছারি রোডের বাসিন্দা মালতী দাস জানান, রাতে ঘুমিয়েও শান্তি নেই৷ বাড়ির চালে মাঝে মাঝে বড় বড় ইট ফেলছে দুষ্কৃতীরা৷ এমন অনেক লোক ঘোরাঘুরি করছে এলাকায়, যাদের আমরা চিনি না৷ মনে হয় তারাই গণ্ডগোল পাকাচ্ছে৷ শাসক দলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ, বিজেপি বাইরে থেকে বহিরাগতদের ভাটপাড়ায় নিয়ে এসেছে৷ বিহার,ঝাড়খন্ড ও ইউপি থেকে লোক নিয়ে এসেছে গণ্ডগোল পাকানোর জন্য৷ পাল্টা স্থানীয় বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ জানান, বহিরাগত থাকলে শাসক দলের পুলিশ কেন তাদের গ্রেফতার করছে না৷ এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের উপর আস্থা হারিয়েছে৷ পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের নগরপাল মনোজ বার্মা জানান,শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে এলাকায় টহলদারি চলছে। আমি নিজে এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি৷

যে যাই বলুক আদৌ কবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে ভাটপাড়ায় তা সময়ই বলবে৷