কলকাতা: লকডাউনের ভাবনা নিয়ে গান বাঁধলেন অনুপম, শ্রীজাত, অনিন্দ্য, চন্দ্রিল। যদিও এই গানের মূল ভাবনা অনুপম রায়ের। লকডাউনে ঘরবন্দি বহু শিল্পী ইতিমধ্যেই নানা সংবেদনশীল কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেইসব কর্মকাণ্ড অনেকেরই চোখে পড়ছে।

লকডাউনের কারণেই গৃহবন্দি হয়ে একসঙ্গে কাজের সিদ্ধান্ত নেন এই চার জন। এর আগে একসঙ্গে কাজ করেননি তাঁরা। জানা গিয়েছে এক ফোনে শ্রীজাতকে ফোন করে এই কাজের কথা প্রথম জানান অনুপম। প্রস্তাব পেয়ে রাজি হয়ে যান শ্রীজাত। তারপর দলে টানা হয় যান অনিন্দ্য এবং চন্দ্রিলকেও।

গানের কথা এরকম: বিকেলের একপ্রান্তে তুমি দাঁড়িয়ে/ আমার ছায়া একদিন ছোঁবে তোমায়।/ নির্বাসনে চুবিয়ে নিয়ে মাথা/ ক্রমশ যেন যাচ্ছি চলে কোমায়।/ মনখারাপকে দূরত্ব দিয়ে ভাগ করে/ আংটির মতো সাজিয়েছি মধ্যমায়/ এই গান তার মানে খুঁজে পাবে/ তোমার আমার নিজস্ব তর্জমায়।/ নিজেকে কুড়িয়ে ঝিনুকের মতো শুনি/ সমুদ্রধ্বনি কোথাও বাজছে কি না/ নির্জনতার মাঠটাকে কোনাকুনি/ পেরচ্ছি তবু ছায়া খুঁজে পাচ্ছি না।/ ছায়াটি আমার একটু তফাতে হাঁটো/ যাও পেরিয়ে কোল্যাপসিবল্ টেনে বিষণ্ণতার প্রহর করেছ ফিরি/ কেউ দরদামে বসন্ত যদি কেনে।/ বেলা বয়ে বয়ে যায়, বেলা বয়ে যায়, এ শহরে।

ঘরবন্দি জীবনে শিল্পই একমাত্র তাঁদের অবসর। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁরা আশ্রয় নেন শিল্পের কাছেই। লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরি হয়ে উঠল এই গান। রেকর্ড হবে লকডাউন শেষ হলে। এই গানের নাম রাখা হয়েছে ‘নির্বাসনের গান’। গানটি শোনার জন্য অপেক্ষা করে আছেন অনেকেই।

এই গান প্রসঙ্গে শ্রীজাত নিজের ফেসবুক দেওয়ালে লেখেন, “আমাদের লেখা প্রথম গান। আমরা মানে, অনিন্দ্য, অনুপম, চন্দ্রিল আর আমি। এই ঘরবন্দি দশার মধ্যে একদিন অনুপম ফোনে বলল, ‘শ্রীজাতদা, চলো না, আমরা নিজেরাই গান বানাই একটা’। বেশ কথা। কীভাবে তৈরি হবে সেই গান? ‘তুমি একটু লেখো, আমি একটু লিখি, তারপর দেখা যাবে?’ উত্তম প্রস্তাব। ঠিক হল, অনিন্দ্য আর চন্দ্রিলকেও দলে টানা হবে, যদি তারা রাজি হয়। এক কথায় রাজি হল সেই দু’জনও। শুরু হল লেখা। দু’দিনের মধ্যে চারজন মিলে লিখলাম একখানা গান, এই প্রথম।”