বিজয় রায়, কলকাতা: শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারের জন্য আর রাজ্যসভায় যেতে পারছেন না সীতারাম ইয়েচুরি৷ বাংলা থেকে কংগ্রেসের সমর্থনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফের একবার রাজ্যসভায় যাবেন কি না তা নিয়ে মঙ্গলবার ভোট দেয় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা৷ সূত্রের খবর, কেরল লবির কাছে ডাহা ফেল করে তৃতীয়বারের জন্য সাংসদ হওয়ার স্বপ্ন কার্যত শেষ সীতারাম ইয়েচুরির৷ নেপথ্যে কী সেই বুদ্ধ বনাম কারাট দ্বন্দ্ব এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে একে গোপালন ভবন৷

‘মিথ্যুক’ সীতারামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বিজেপির

সীতারাম ইয়েচুরিকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিয়ে বিগত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে সিপএমের অন্দরে শুরু হয় জোর চর্চা৷ সূত্রের খবর এই রাজ্য থেকেই পর পর দু’বার সংসদে গিয়েছিলেন সীতারাম৷ বাংলার সিপএম নেতারা চাইছিলেন এবারও সংসদে যাক সুবক্তা এই বাম সাংসদ৷ তবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সংগঠনে সীতারামের পদ৷তিনি এখন বর্তমানে পার্টির সাধারণ সম্পাদক৷এই পদে থেকে সংসদে যাওয়া মানে পার্টি লাইন থেকে সরে আসা৷ তাই তৃতীয়বারের জন্য সাংসদ হওয়ার ইচ্ছে নেই বলে প্রকাশ্যে আগেই জানিয়েছিলেন সীতারাম৷ তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে এই মুহূর্তে দলে তেমন কেই না থাকায় বাংলার নেতারা সকলেই চেয়েছিলেন সীতারামকে ফের পাঠাতে৷

ভারতীয় সেনাকে অপমান! ঘরে ঢুকে সীতারামকে মেরে এল সেনা

এদিকে বাংলার নেতারা চাইলেও কংগ্রেসের সমর্থনে যাওয়ার কোনও মানে হয় না বলে আগেই জানিয়েছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিটব্যুরোর সদস্য পিনরাই বিজয়ন৷ প্রকাশ্যে না বললেও দলের অন্দরের খবর, সীতারামকে রাজ্যসভায় নতুন করে পাঠাতে রাজি ছিলেন না প্রকাশ কারাটও৷ সীতারাম ইস্যুতে দল সমান্তরাল দুটি ভাগে ভাগ হওয়ায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি ঠিক করে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে৷ সেইমতো এদিন দিল্লিতে পার্টির সদর দফতরে ভোট হয়৷ জানা গিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট সীতারামের বিরুদ্ধেই গিয়েছে৷ যার অধিকাংশ ভোটার কেরলের সদস্যরা৷

তবে মজার ব্যাপার, পরিসংখ্যান বলছে যে ভোট সীতারামের বিরুদ্ধে গিয়েছে তার একটা বড় অংশ এই রাজ্য ও ত্রিপুরা থেকেও রয়েছে৷ ফলে নতুন করে প্রশ্ন ফের কি তাহলে মার্কসবাদী দলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে? বুদ্ধ বনাম কারাট লবির যে কথা বার বার বলা হয় এক্ষেত্রেও কি তেমন কোনও ব্যাপার রয়েছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রাজ্যের এক প্রতিনিধি তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের কথায়,‘‘আমরা চেয়েছিলাম সীতারাম ইয়েচুরিকে ফের একবার সাংসদে পাঠাতে ৷ তবে কেরল ও ত্রিপুরা থেকে অনেকেই তার বিরোধিতা করেন৷শেষ পর্যন্ত ভোট হলে সীতারামের বিরুদ্ধে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট যায়৷’’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃতীয় বারের জন্য সীতারাম যাতে সাংসদ হতে না পারেন তার জন্য দলের ভিতের সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন প্রকাশ কারাট৷আর শেষ পর্যন্ত তাঁর পাল্লাই ভারী হয়েছে৷’’

টাকি স্কুলের নতুন ভবন ইয়েচুরি ও কুণালের সাংসদ তহবিলের অর্থে

রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় শেষের দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক বার বার এড়িয়ে যেতেন বুদ্ধ দেব ভট্টাচার্য্য৷এমনকী পলিটব্যুরোর বৈঠকেও যেতেন না তিনি৷ সেই সময় দলে একটা চর্চা ছিল, কেরল লবি বিশেষ করে প্রকাশ কারাট গোষ্ঠী যা বলতো সেটাই সুর সুর করে মানতে বাধ্য হতেন এই রাজ্যের নেতারা৷ তাই একটা সময়ের পর কি কেন্দ্রীয় কমিটি , কি পলিটব্যুরো৷কোনও বৈঠকেই আর উপস্থিত থাকতেন না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷শেষ পর্যন্ত তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য পদ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন৷ তবে সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে তাঁর সখ্যতা সকলের জানা৷

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি হতে দেননি কারাত

মূলত ২০০৫ এ তাঁর ইচ্ছেতেই রাজ্যসভায় প্রথম যান সীতারাম৷ এর আগেও প্রকাশ কারাট লবির সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে রাজ্যসভায় এই রাজ্য থেকে ঋতব্রতকে পাঠিয়েছিলেন বুদ্ধদেব৷ সেই সময় কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সীতারাম ইয়েচুরির সমর্থন থাকায় তা অনেকটা ‘প্লাস পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়ায়৷ তবে এইবার সীতারাম ইয়েচুরিকে নিয়েই যখন গোটা ইস্যু সেখানে আগেই ভোট দান থেকে বাদ ছিলেন তিনি৷ এদিকে সীতারামের হয়ে রাজ্যে পার্টির ভেতরে গলা ফাটালেও দিল্লিতে সীতারামকে লড়াইটা একাই লড়তে হয়েছে৷সেখানেও আবার এই রাজ্যের সকল সদস্য সীতারামকে ভোট দেয়নি৷ যার ফল, তৃতীয়বারের জন্য সাংসদ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল ‘প্রকাশ কাঁটা’ ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.