তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এখন উনি শুধু দেশের চৌকিদার নন। আকাশেরও চৌকিদার। ঠিক এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

বুধবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া লোকসভার দলীয় প্রার্থী অমিয় পাত্রের সমর্থনে শহরের লালবাজার সংলগ্ন কমলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে আসেন সীতারাম ইয়েচুরি৷ সেখানে তিনি বালাকোটের ঘটনার প্রসঙ্গ বলেন, পাকিস্তানি জঙ্গি নিকেশ করল বায়ু সেনা। আর এর সমস্ত কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন। এরপরেই তাঁর সংযোজন, আকাশের চৌকিদার আপনি আকাশেই থাকুন। আমাদের দেশের মানুষকে এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই দিন।

বিগত পাঁচ বছরের নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের কাজের সমালোচনা করে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক৷ বলেন, ‘‘এখন অনেকে বলছেন আগে রাম আসবে, পরে বিম। কিন্তু ভেবে দেখা দরকার মুখে রামের নাম নিয়ে পাঁচ বছর ধরে রাবণের মতো কাজ করে গেলেন ওরা। পৌরাণিক মহাভারতে পাণ্ডবরা পাঁচ ভাই। কিন্তু তার পরেও একশো জন ভাই হওয়া সত্ত্বেও কৌরবরা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের কাছে হেরে যান।’’

এখন রাজনৈতিক মহাভারত চলছে বলে দাবি করেন সীতারাম ইয়েচুরি৷ বলেন, কৌরবের একশো ভাইয়ের দুই ভাই হল নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ। এখন এরা নিজেদের বৃহত্তম দল দাবি করে যে অহংকার দেখায় এক সময় মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসন তাই দেখিয়েছিলেন। পরে তাঁদের পরিণতির কথা সবাই জানেন। একই সঙ্গে এরাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলকেও এক হাত নেন তিনি। রাজ্যের আপামর জনসাধারণের স্বার্থে এই সরকার উল্লেখযোগ্য কিছুই করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

বাঁকুড়ার জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে বিষ্ণুপুরে এক পদযাত্রায় অংশ নেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরে দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী সভা ও পদযাত্রায় মানুষের বিপুল অংশগ্রহণে খুশি বাম নেতৃত্ব। একই সঙ্গে বাঁকুড়া শহরের সভায় একজন অবাঙ্গালী নেতার মুখে দীর্ঘক্ষণ ধরে হিন্দির পাশাপাশি সুস্পষ্ট বাংলা ভাষায় বক্তব্য শুনে খুশি সাধারণ মানুষও।

রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরা অনেক পথ চলতি মানুষ সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের মুখে বাংলায় বক্তব্য শুনে দাঁড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ ধরে তারা ইয়েচুরির বক্তব্য শোনেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক বাংলা ভাষায় বক্তব্য রেখেই অনেকাংশে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.