সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: ক্রমে বাড়ছে ভক্তির পরিমাণ। সালকিয়ার শীতলা মায়েদের কে বড় কে সেজ বোঝা দায়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে গজিয়ে উঠেছে এক একটি শীতলা মন্দির। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন মায়ের নামে এখন ব্যাবসা চালু হয়ে গিয়েছে সালকিয়ায়।

শ্রী শীতলা মাতার স্নান যাত্রা সালকিয়া শতাব্দীপ্রাচীন উৎসব। মাঘ মাসের মাঘি পূর্ণিমার দিবস হয় শ্রী শ্রী শীতলা মাতার স্নান যাত্রা।স্নান যাত্রার দিবসে সব শীতলা মাতাদের মন্দির থেকে পালকি সাজাইয়া গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাত্তয়া হয়। দুপুরে শীতলা মাতাদের সুসজ্জিত পালকি করে আনা হয়। আগে মাত্র ৭টি শীতলা মাতা আসতেন, আর এখন সংখ্যা ৬০ পার করে গিয়েছে । আর এটাকেই স্থানীয়রা বলছেন ভক্তির নামে ব্যবসা।

নিয়ম আছে যে সব মায়েদের পর “বড় মা” আসবেন। সারা রাত শীতলা মাতার পুজ হয়। দন্ডি কেটে মানসিক পুর্ণ করেন বহু মানুষ। এই স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে। মা’কে দর্শন করেন। তার পরের দিন “সোলো আনা পুজো” হয়। সোলো আনা পুজো দিয়ে প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভাঙেন। কিন্তু এখন কখন কোথা থেকে কে আসেন তা বোঝা যায়। বড় , সেজ , মেজ মা তালেগোলে একসা হয়ে যায়। ছোট মা বহুদিন মন্দিরের বাইরে বের হন না। তা নিয়ে আবার অনেক গল্প কথা রয়েছে। কিন্তু সবমিলিয়ে মানুষের বিশ্বাস কার্যত ব্যাবসায় পরিণত হয়েছে বলেই মত খোদ সাললিয়ার মানুষের।

ঘনজনবসতিপূর্ণ উত্তর হাওড়ার একটি জনপদ হল সালকিয়া | লৌকিক মতে এখানকার শীতলা দেবীরা সাত বোন। এঁদের মধ্যে হরগঞ্জ বাজারের পাসে অরবিন্দ রোডস্থ প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে শীতলা দেবী বড়বোন। তাই “বড়মার মন্দির” নামে খ্যাত। প্রতিদিন বহু অগণিত ভক্ত সমাগম হয়।এঁরা কেউ দারু নির্মিত, কেউ হাঁড়িতে অঙ্কিত।কেবলমাত্র কয়েল বাগানের কয়েলেশ্বরী মা শীতলা হচ্ছেন পাথরের মূর্তি। এই দেবী গুটিদানা জনিত (হাম,বসন্ত ইত্যাদি)রোগের দেবী। এই দেবীকে আবার সমন্বয়ের দেবী ও বলা যেতে পারে।

মা শীতলা সনাতন ধর্মের একজন দেবী বিশেষ। সনাতনী ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে এই দেবীর প্রভাবেই মানুষ বিভিন্ন চর্মরোগাক্রান্ত হয়। পুরাণে শীতলার কথা আছে, সেখানে তাঁকে গুটিবসন্তের নিয়ন্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। যজ্ঞের আগুন থেকে তাঁর উদ্ভব এবং ভগবান ব্রহ্মা কেবল তাঁকে নয়, তাঁর সহচর জ্বরাসুরকেও পুজো করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দিয়েছিলেন। আবার অন্য কাহিনীতে দেখা যায় যে দুর্গা কাত্যায়ন মুনির ছোট্ট মেয়ে হয়ে জন্ম নেন এবং তাঁর শৈশবের বন্ধুদের কলেরা, উদরাময়, হাম, গুটিবসন্ত ইত্যাদি নানান ব্যাধি থেকে রক্ষা করেন। এই কাত্যায়নীর আর এক রূপ হল শীতলা। ব্রহ্মার কন্যা এবং কার্ত্তিকেয়ের স্ত্রী হিসেবেও শীতলাকে দেখা যায়। পুরাণ ছাড়াও এই দেবী আছেন সহজ সরল লোক কথায়, যেমন শীতলা কথা, মঙ্গলকাব্য।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I