কলকাতা: শিশুপাচার চক্রের তদন্তে নেমে ক্রমাগত জাল গুটিয়ে আনছে সিআইডি৷ শহরজুড়ে একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কলকাতার লাইসেন্সবিহীন দুটি নার্সিংহোম থেকে তিন মহিলাকে গ্রেফতার করস সিআইডি। এর মধ্যে একটি নার্সিংহোম কলেজ স্ট্রিটে, অন্যটি বেহালার সত্যেন রায় রোডে। গত বুধবার রাতেই সিআইডির জালে ধরা পড়ে যায় সন্তোষকুমার সামন্ত নামে এক চিকিৎককেও। বাদুড়িয়ার নার্সিংহোম ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশেই তারা পাচার চালাত বলে দাবি সিআইডি’র। খোঁজ মিলেছে তিলজলা এলাকার এক নার্সিংহোমসহ পাঁচ থেকে ছ’টি নার্সিংহোমের। যেখান থেকে শিশু পাচার হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন। নাম জড়াতে শুরু করেছে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বহু চিকিৎসক এবং এনজিও।

চক্রের জাল যে গোটা রাজ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন তদন্তকারী অফিসাররা। জানা যাচ্ছে, বনগাঁ এলাকার পলাতক চিকিৎসক টি কে বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই চক্র চালানোর পিছনে। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের আড়ালেই ব্যাবসা চলত। তাঁর সঙ্গে একাধিক নার্সিংহোমের যোগাযোগ ছিল। সন্তানসম্ভবা যে সমস্ত মহিলা আসতেন, তাঁদের বাদুড়িয়ার এই নার্সিংহোমে ভরতির জন্য রেফার করতেন তিনি। গর্ভপাত করানোর জন্য আসা মহিলাদেরও তিনি এখানে পাঠাতেন। বাদুড়িয়া ছাড়াও কলকাতার একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, বাদুড়িয়ার নার্সিংহোমে খরিদ্দারের চাহিদা অনুযায়ী বাচ্চা না পাওয়া গেলে, তা সাপ্লাই দিত কলেজ স্ট্রিটের শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোম ও বেহালার সত্যেন রায় রোডের বড়দি নার্সিংহোম। একইভাবে তাদেরও প্রয়োজন পড়লে তা মেটাত বাদুড়িয়ার এই নার্সিংহোমটি। ধৃত উৎপলা ব্যাপারীই এই নার্সিংহোম দুটির খোঁজ দেন গোয়েন্দাদের। তার ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে কলেজ স্ট্রিটের নার্সিংহোমের কর্ত্রী পারমিতা চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যটির মালিক পুতুল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগী প্রভা প্রামাণিককে নিয়ে আসা হয় ভবানীভবনে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।