কলকাতা: চলে গেলেন সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। তাঁর প্রয়াণে সাহিত্য জগতে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যেই শোকবার্তা দিয়েছেন বহু সাহিত্যিক। প্রিয় নবনীতার চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি, বললেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

নবনীতা দেবসেনের প্রয়াণের পর তিনি kolkata24x7-কে বলেন, “নবনীতার চলে যাওয়াটা আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলা সাহিত্যের একটা অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। বাংলা সাহিত্যের বহু শাখায় তাঁর বিচরণ। এরকম আর পাওয়া যাবে না। কবিতা-গল্প-উপন্যাস-ভ্রমণ কাহিনী লিখেছে। ছোটদের জন্য রূপকথা রচনায় অসামান্য অবদান তাঁর। রূপকথা বেশি লেখেনি, অল্পই লিখেছে। কিন্তু যেটুকু লিখেছে তা চমৎকার।

একেবারে বাল্যকাল থেকেই নবনীতা হাঁপানিতে ভুগত। কিন্তু অসুস্থতাকে পাত্তা না-দিয়ে, গুরুত্ব না-দিয়ে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছে। আলাস্কার মতো ঠাণ্ডার জায়গায় চলে যেত। একা একা কত জায়গায় ঘুরেছে। কুম্ভ মেলায় গিয়েছে। যখনই কাছাকাছি বসে আমরা কথাবার্তা বলতাম– ওঁর প্রাণশক্তি আমাকে স্পর্শ করত। ভাবতাম, নবনীতা তো সব কিছুকেই অগ্রাহ্য করতে পারে!

ক্যান্সার হওয়ার পরেও আমি দেখেছি নবনীতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছে, নানা সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করছে। আমি অবাক হয়ে যেতাম– একে হাঁপানি, তারপর ক্যান্সার হয়েছে তা সত্ত্বেও নবনীতা দমে যায়নি। সব মিলিয়ে মিশিয়ে ডায়নামোর মতো অফুরন্ত মানসিক শক্তির আধার ছিল তাঁর ভেতরে। সেই শক্তি বা মনবল সাংঘাতিক। সুতরাং নবনীতার চলে যাওয়াটা ঠিক সহ্য করার মতো নয়। খুবই দুঃখ হচ্ছে। খুবই বেদনা হচ্ছে। খুব অভাববোধ হচ্ছে।”