স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : করোনা আতঙ্কের জেরে কিছু মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যেমন হলেন হাওড়ায়। টলিউদের অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পরিবারকে অযথা হেনস্থার অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে টেলি অভিনেতা দ্বৈপায়ন দাসের মামী লুকিয়ে আবু ধাবি থেকে হাওড়ার বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।  খবর এতটাই বিশ্রীরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে রীতিমত ডেকে আনা হয় স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের। অভিযোগ , জোর করে চালানো হয় তল্লাশি।

যে মহিলার বিরূদ্ধে এমন ‘অভিযোগ’ তাঁর নাম তিতাস চৌধুরী। তিনি হাওড়াতে তো নেই। তিনি এই দেশেতেই নেই। তিনি রয়েছে আবু ধাবিতেই। কিন্তু গুজবের জেরে হেনস্থার শিকার হতে হয় তাদের পরিবারকে। শনিবার রাত থেকেই গুজব ছড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ দ্বৈপায়ন দাসের স্ত্রী অভিনেত্রী পায়েলের। তিনি তাঁর সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে সেই কথা জানিয়েছেন। ২২ মার্চ সকালে তীব্র হেনস্থার শিকার হন পায়েল দে ও দ্বৈপায়ন দাসের পরিবারের ওই সদস্য। হেনস্থার শিকার হন দ্বৈপায়নের মামা।

এমন গুজব ছড়ানো হয় যে, কিছু মানুষ তাঁদের শিবপুরের বাড়িতে চড়াও হন এই অভিযোগ নিয়ে যে তিতাস চৌধুরী ফিরে এসেছেন এবং তাঁকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিব্রত তিতাস চৌধুরী। তিনি আবু ধাবি থেকে লাইভে এসে জানান , ‘যে তিনি কলকাতায় ফেরেননি এবং তাঁর স্বামীকে অযথা হেনস্থা করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।’

সম্প্রতি কলকাতায় এই করোনা নিয়েই হেনস্থার শিকার হন এক মহিলাও। ভরা শহরে, মাঝরাস্তায় বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন এক ভারতীয় মহিলা যিনি জন্মসূত্রে বিদেশি। শহর জুড়ে এমনিতেই করোনা আতঙ্ক। আতঙ্ক এতটাই যে বাসে, ট্রামে কেউ হাঁচলে বা কাশলে যেমন মানুষ চোখ টেরিয়ে দেখছেন তেমনই আবার কোনও বিদেশি বা বিদেশিনীকে রাস্তায় দেখলেই এড়িয়ে চলার প্রবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

এমনকি চিনা মানুষের মতো দেখতে এমন কোনও ভারতীয়কে দেখলেও মানুষ পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এমন সময়ে শহরে এক বিদেশিনী যিনি বিবাহ সূত্রে ভারতীয় এমন মহিলাকে ঘিরে ধরে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হয়। তাকে ঘিরে ধরে ‘করোনা ভাইরাস’ বলে নাগাড়ে চিৎকার করেন স্থানীয় মানুষ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও