স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কালীঘাটের বাড়িতে আগেই গিয়েছিলেন৷ দেখা হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ সেখান থেকেই সিরাজুল মণ্ডলকে মহাকরণে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে। নির্দেশ মেনে সোমবার বিকেলে মহাকরণে যান সিরাজুল। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেন। এরপরই মন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস মেলে একুশে-এর হারানো চাকরি ফিরে পাওয়ার৷ ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে৷’’

‘নো আই কার্ড নো ভোট’ ইস্যুতে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেন তখনকার যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেসময় ব্রেবোর্ন রোডে বিনা কারণে এক মহিলার (পড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করেন কনস্টেবল সিরাজুল মণ্ডল৷ পুলিশের এক বড়কর্তার বিরুদ্ধে বন্দুক উচিয়ে জেহাদও ঘোষণা করেন তিনি৷ যার ফলে নিস্তার পান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উপর আর আক্রমণ হয়নি। এরপর ১৯৯৬ সালে দেরিতে অফিস আসার জন্য চাকরি যায় সিরাজুলের।

অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করেই চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হয় সিরাজুলকে৷ মামলা গড়ায় হাইকোর্টে৷ কিন্তু অর্থের অভাবে ভালো আইনজীবীও দিতে পারেননি তিনি। মামলায় হেরে যান তিনি। তারপর আর উচ্চ আদালতে যাওয়া হয়নি৷ সিরাজুলের কথায়, ‘‘কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, কিন্তু সরকার চাইলে কি না হয়৷’’ তাই মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় ফের বুক বেঁধেছেন সারিজুল মণ্ডল৷

পড়ুন: মেডিক্যালে অনশন: মমতাকে কাঠগড়ায় তুলে দিল্লিতে চিঠি মুকুলের

উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার বাসিন্দা সিরাজুলের বর্তমানে ফেরি করেই দিন কাটে৷ একসময় পুলিশের উর্দি গায়ে চাপিয়ে তিনি মানুষটি মাথা উঁচু করে বাঁচতেন৷ এখন মাঝে মাঝে মাঠে চাষা করেন৷ পরিবারের কিছু জমি জমা থাকায় কোনওমতে খেয়ে পড়ে চলে যাচ্ছে জীবন৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সিরাজুলের একান্ত আবেদন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে তাহলে উপকৃত হব৷ এখনও ১০ বছর চাকরি আছে আমার৷ পরিবার নিয়ে একটু স্বচ্ছ্বলভাবে বাঁচতে পারব৷”

তবে সিরাজুলের মনের বাসনা, যাঁকে একদিন তিনি জীবন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরই রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার৷ চাকরির বাকি জীবনটা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী হয়ে তাঁকে রক্ষা করতে চান সিরজুল৷ তবে সেক্ষেত্রে জটিলতা আছে ষোলোআনা। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী হতে গেলে স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মী হতে হয়৷ সেইসব জটিলতা কাটিয়ে কবে কাজে ফিরবেন সিরাজুল এখন সেই দিকেই তাকিয়ে তাঁর পরিবার ও গোবরডাঙার মানুষজন৷